বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে শনিবার সেমিনারে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম
ছবি: সংগৃহীত

সামরিক উদ্দেশ্য নিয়ে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর কিছু করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেছেন, এর পরিবর্তে সমুদ্রপথে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাড়ানোর মাধ্যমে সবার অবাধে যাতায়াত ও বাণিজ্য বৃদ্ধির স্বার্থে উদ্যোগী হওয়া দরকার।

আজ সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে এক সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। ‘বাংলাদেশের ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক: সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে বিস।

শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দৃষ্টিভঙ্গি (আইপিও) নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নয়। এর লক্ষ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, এই অঞ্চলের সবার স্বার্থে অভিন্ন সমৃদ্ধি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মনে করি সামরিক উদ্দেশ্য নিয়ে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো দেশেরই কোনো কিছু করা উচিত নয়। বিশেষ করে সমুদ্রের মাধ্যমে যোগাযোগের যে রাস্তাগুলো আছে, সেসব জায়গাকে সামরিকীকরণ না করে, সেগুলোয় আমাদের একে অপরকে সহযোগিতা করা দরকার। যেন মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর স্বার্থে অবাধ যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিশ্চিতের বিষয়টি সবাই মিলে নিশ্চিত করতে পারি।’

বাংলাদেশ বৃহৎ শক্তি ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে, বর্তমানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু, যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে একটিকে বেছে নেওয়ার বিষয় এটি নয়। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির (আউটলুক) উদ্দেশ্য হচ্ছে আইনের শাসন, সমুদ্রপথে অবাধ যাতায়াত, অন্তর্ভুক্তিমূলক মৌলিক নীতিগুলোকে সমুন্নত রাখা।’

অনুষ্ঠানে ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও দিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সিকিউরিটি ইস্যুজের আহ্বায়ক পঙ্কজ সরণ বলেন, ‘একটি অবাধ, মুক্ত, নিয়মতান্ত্রিক ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ছাড়া আমরা বিশ্বে স্থিতিশীলতা আশা করতে পারি না। এই স্থিতিশীলতা প্রথমে আমাদের নিজেদের অঞ্চলে, পরে এই অঞ্চলের বাইরে নিশ্চিত করতে হবে।’

পঙ্কজ সরণ বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতার এমন একটি মডেল ও রূপরেখা ঠিক করতে হবে, যাতে এর সুফল সব দেশের সব নাগরিক পান। উদ্যোগগুলো স্বচ্ছ ও টেকসই হতে হবে, যেন তা ঋণের কোনো ফাঁদ তৈরি না করে। সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার সময় জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশ। সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে সম্মিলিতভাবে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জন করতে হবে। ভারত মহাসাগরীয় কৌশলকে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করি।’

এ সময় পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংযুক্তির কেন্দ্রে পরিণত করার চেষ্টা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলমান থাকবে। বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে (আউটলুক) “অন্তর্ভুক্তিমূলক” শব্দটি বলবৎ থাকবে এবং এটি কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তন করা হবে না।’

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমাদের আউটলুক অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার কারণে উন্নয়ন, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কাজ করার মানে এই নয় যে আমরা কোনো সামরিক জোটে যোগ দিচ্ছি।’