সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিতে রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেনছবি : বাসস

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, বেতনকাঠামো ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি যুগোপযোগী রোডম্যাপ তৈরি করছে।

পেশাগত সব সমস্যা সমাধানে সাংবাদিক নেতাদের প্রস্তাব ও সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির মাধ্যমে আমরা পাহাড়সম সমস্যার জট খুলতে চাই।’

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল–পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড ও পেশাগত ঝুঁকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেস ও আইনি কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সরাসরি আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকে না। আমরা এই সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করছি। প্রয়োজনে রুলস অব বিজনেস পুনর্মূল্যায়ন ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে সময়োপযোগী সংস্কার করার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।’

ডিজিটাল অধিকার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখনকার যুগে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার বাইরেও ডিজিটাল সার্ভিস মানুষের ফান্ডামেন্টাল রাইটের (মৌলিক অধিকার) মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। আমাদের সরকার যেহেতু বিজনেস মিন করে, তাই আমরা আগে সমস্যার গভীরে গিয়ে রোগটা বুঝতে চাইছি।’

বিটিভি ও বেতারের আধুনিকায়ন বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিটিভিকে কেউ কেউ সাহেব-বিবি-গোলামের বাক্স মনে করে। রেডিও আসলেই কেউ শোনে কি না, তা নিয়ে আমার নিজেরই প্রশ্ন আছে। অথচ বিশ্বে কমিউনিটি রেডিও অনেক শক্তিশালী। তাই প্রতিটি মুহূর্তে সেবা দেওয়ার জন্য ডিজিটাল এম্পাওয়ারমেন্ট প্রয়োজন।’

সাংবাদিকতার পেশাদারত্ব রক্ষা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃত সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকেই অভিযোগ আসছে যে অনেকে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কাজ করছে। এসব বিশৃঙ্খলা দূর করে প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় মালিকপক্ষ ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে দ্রুতই মতবিনিময় করা হবে।’

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ‘কী প্রচার করা যাবে না’ শুধু সেটুকুই সুনির্দিষ্ট থাকা উচিত। এর বাইরে বাকি সবকিছুই প্রচারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান প্রয়োজন উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তবে বারবার মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের কারণে সেই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা গড়ে ওঠে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ একটি মন্ত্রণালয়, কাল আরেকটি—এভাবে দায়িত্ব বদল হওয়ায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। কিছু মন্ত্রণালয়ে জনসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অপরিহার্য, যা আলাদাভাবে অর্জন করতে হয় এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চর্চা করা দরকার। কিন্তু বাস্তবে এসব উদ্যোগ যথাযথভাবে নেওয়া হয় না। ফলে নানা ধরনের ভুল–বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।’

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর সড়কের পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, শুরুতে ওই প্রতিবেদন হালকাভাবে নেওয়া হলেও সেখানে থাকা বিশদ বিশ্লেষণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনের পর ধাপে ধাপে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন শুরু করা হয়। ফলে অনেক জায়গায় রাস্তার চেহারা বদলে গেছে এবং আগের মতো দীর্ঘ যানজট অনেক এলাকায় কমে এসেছে।

প্রতিবেদনের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এর সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার বলেন, সাংবাদিকেরা তাঁদের লেখনির মাধ্যমে পুলিশের ইতিবাচক কাজের পাশাপাশি কোনো ব্যত্যয় থাকলে তা তুলে ধরেন, যা কর্মক্ষেত্রে সহায়ক হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক সুন্দর এবং ভবিষ্যতেও এই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশা। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ক্র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।