বিসিআইসির সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সম্পদ ক্রোক, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খোন্দকার মুহম্মদ ইকবাল (৪২) ও তাঁর স্ত্রী মোছা. হালিমা আক্তারের নামে থাকা সাড়ে ২৩ কাঠা জমি, ১২টি ফ্ল্যাট এবং ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে তিনটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির উপপুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান সম্পদ জব্দের আবেদনটি করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, জব্দ করা এই সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা।

জব্দের আবেদনে বলা হয়, আসামি খোন্দকার মুহম্মদ ইকবাল সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক ও হিসাব বিভাগীয় প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে (বিসিআইসি) দায়িত্ব পালন করেন। চাকরির সময়ে তিনি শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অসংখ্য ভুয়া বা জাল বিল ও ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা আত্মসাৎ করে ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমি কিনে মানি লন্ডারিংসহ সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে স্থাবর সম্পত্তি ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি এবং ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার, ১২টি ফ্ল্যাটসহ মোট ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা পাওয়া যায়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের আদেশ প্রদান করা না হলে অভিযোগ নিষ্পত্তির পূর্বেই স্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি যাতে হস্তান্তর, রূপান্তর বা বিক্রি করতে না পারে সে জন্য জব্দসহ সরকারি গেজেট ও অন্তত দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচার করার আদেশ দেওয়া প্রয়োজন।

সিআইডি আরও জানায়, তদন্তে আসামির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তিনটি ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি ৬৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৭ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সব হিসাবে ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা জমা রয়েছে। এই অর্থ অবরুদ্ধ করা না হলে তা অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।