আওয়ামীপন্থী শিক্ষক গোলাম রব্বানীকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দিতে স্মারকলিপি

স্মারকলিপি দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানীকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি ও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, গোলাম রব্বানী ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী’।

আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীরা এ স্মারকলিপি দেন। উপাচার্যের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

৬ জানুয়ারি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেন। এরপর ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রব্বানীর নাম দেখা যায়।

গোলাম রব্বানীকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী অভিযোগ করে তাঁকে বিভাগের চেয়ারম্যান করাটা তাঁদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময় তিনি ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ এই ছয় বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া হামলার পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সরাসরি তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার সমর্থনে মিছিল করেছেন। ফলে খুনি হাসিনার পাশাপাশি তাঁর নামেও একাধিক মামলা রয়েছে।’

স্মারকলিপি দেওয়া শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের আচরণ জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।

মুসাদ্দিক বলেন, ‘গোলামী রব্বানী ছিল শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ফ্যাসিবাদের দোসর গোলাম রব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।’