শিক্ষার্থীদের প্রাণোচ্ছল পদচারণে মুখর বুয়েট বইমেলা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রাঙ্গণে চার দিন ধরে চলছে উৎসবের আমেজ। ক্লাসের ফাঁকে বা ছুটির পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। এখানে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনার বইয়ের স্টল। ৪ জানুয়ারি থেকে এখানে ‘বুয়েট সাহিত্য সংসদের আয়োজনে শুরু হয়েছে চার দিনের ‘ম্যাটাডোর বুয়েট বইমেলা–২০২৬’। মেলার সামপনী দিন ছিল আজ বুধবার।
বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আয়োজিত এ মেলায় প্রথমা, ঐতিহ্য, মাওলা ব্রাদার্স, সমকালীন, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, প্রচ্ছদসহ প্রায় ২৫টি প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
আজ বিকেলে বুয়েট সাহিত্য সংসদের নির্বাহী কমিটির সদস্য মুস্তাহিদ মুকাররমী প্রথম আলোকে জানান, মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এ কে এম মাসুদ, অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ এবং ‘বুয়েট সাহিত্য সংসদ’–এর ক্লাব মডারেটর মঞ্জিলা ইসলাম।
বুয়েট বইমেলায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বই বেচাকেনার পাশাপাশি ছিল বিশেষ কিছু আয়োজন। এর মধ্যে ‘কণ্ঠ বুয়েট’ আয়োজিত ‘কণ্ঠ বেতার ক্যাফেটেরিয়া.০ FM’ এবং ‘সাঁঝবাতির সমাবেশ’ দর্শকের নজর কেড়েছে। ভিন্নধর্মী এই বেতার অনুষ্ঠানে নিয়মিত পাঠ করা হচ্ছে চিঠি, বাজানো হচ্ছে অনুরোধের গান। আর সাঁঝবাতির সমাবেশে শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি করছে নিজেদের লেখা কবিতা। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অডিটরিয়াম প্রাঙ্গণের মঞ্চে ছিল জনপ্রিয় কাওয়ালি ব্যান্ড ‘কাসীদা’র পরিবেশনা, ইলা ও প্রহরী পরিবেশন করেছেন ব্যান্ডের গান। মেলায় আরও ছিল পিঠাপুলির আয়োজন ও কফিশপ।
প্রতিদিনই এসব আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বুয়েটশিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন। সবার জন্য মেলাটি উন্মুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পদচারণে বইমেলার এই ছোট্ট প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত ছিল।
শিক্ষার্থীদের এমন জমজমাট উপস্থিতিই জানান দেয়, প্রযুক্তির ভিড়েও বই পড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বরং তা হয়তো ধীরে ধীরে আবারও বাড়ছে। বুয়েট সাহিত্য সংসদের সদস্যরা জানান, তাঁদের এ আয়োজন ছিল মানুষের ভেতরের বই পড়ার ভালোবাসাটিকে আবারও জাগ্রত করার একটি প্রয়াস। ভবিষ্যতে সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির।