সকাল আটটার দিকে উৎসবস্থল প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীরা। উৎসবের শুরুতে নির্দিষ্ট বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও নাশতা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিলনায়তনে পঞ্চগড় বন্ধুসভার সদস্যদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলোর পঞ্চগড় প্রতিনিধি রাজিউর রহমান। পঞ্চগড় বন্ধুসভার সদস্য রিফাহ তাসনিয়া প্রধান ও উর্মি রায়ের সঞ্চালনায় শুরু হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন প্রধান, পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপঙ্কর রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এহেতেশামুল হক, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাসনুর রশিদ, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, প্রথম আলোর এডিটর, রিজিওনাল নিউজ তুহিন সাইফুল্লাহ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলে বন্ধুসভার সদস্যদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে অংশ নেয় সংবর্ধনা নিতে আসা কৃতী শিক্ষার্থীরাও। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে একাধিক গান পরিবেশন করে বন্ধুসভার সদস্যদের নিয়ে গঠিত ব্যান্ড দল ‘ব্যান্ড এপিটাফ’।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার টোকরাভাসা এলাকা থেকে এসেছিল সায়মা আক্তার। এবার টোকরাভাসা তহিবন নেছা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

সায়মা আক্তার বলল, ‘প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে এসেছি। সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়েছি। শীতের দিনে আসতে কিছুটা কষ্ট হলেও এখানে এসে মন ভালো হয়ে গেছে। সবাই একসঙ্গে এভাবে সংবর্ধনা পাওয়ার মজাটাই আলাদা। প্রথম আলোর সার্টিফিকেট আর ক্রেস্ট পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।’

আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০টায়।

এর আগে তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশা ঠেলে থানচি, রুমা, আলীকদম ও লামাসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে কৃতী শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনে সমবেত হতে থাকে। সকাল ১০টার আগেই মিলনায়তন প্রাঙ্গণ ও মিলনায়তন কৃতী ছাত্রছাত্রীদের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন বন্ধুসভার সদস্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান বন্ধুসভার সদস্য মাঈন উদ্দিন ও সূচনা বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জীবনে সাফল্য লাভের সূচনাবিন্দু মাত্র। সাফল্যের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছাতে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রম করে নিজের ভাগ্য নিজেকে বদলে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রবীণ গুণীজন শ্যামল বড়ুয়া, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সমন্বয়কারী মো. ইয়াকুব, বান্দরবান সরকারি কলেজের প্রভাষক মেহেদি হাছান, বান্দরবান সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক দিলীপ কুমার নাথ, আমিনুর রহমান প্রামাণিক, কণ্ঠশিল্পী থোয়াইচিংপ্রু নীলু মারমা, প্রথম আলোর চিফ স্পোর্টস এডিটর উৎপল শুভ্র। বন্ধুসভার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে আসা কৃতী শিক্ষার্থী দীপান্বিতা বড়ুয়া বলল, তার জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে মা-বাবা, শিক্ষক সবার অবদান ছিল। সে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। ভবিষ্যতে সাফল্যের জন্য চেষ্টা করবে।

মাহমুদুল হাসান বলল, জীবনে প্রথম সংবর্ধনা পেয়ে অত্যন্ত আনন্দবোধ করছে। রোয়াংছড়ি থেকে আসা উসাইহ্লা মারমা বলে, সে বান্দরবান জেলা শহরের একটি কলেজে ভর্তি হয়েছে। বন্ধুদের অনেকে ভর্তি হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সংবর্ধনায় এসে সবার সঙ্গে দেখা হয়ে খুবই ভালো লাগছে।

অনুষ্ঠানে মারমা শিল্পীগোষ্ঠী ও বন্ধুসভার সদস্যরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি চলে কবিতা আবৃত্তিও।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, প্রথম আলো ই-পেপারের (১ মাস) ও চরকির (১৫ দিন) ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, শিখোর সৌজন্যে বিনা মূল্যে কোর্স এবং ফ্রেশের সৌজন্যে সকালের নাশতা দেওয়া হয়।

এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে ফ্রেশ, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।