আজ রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়সংলগ্ন ঢাকার সিজেএম আদালত ফটকের সামনে থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত সামির এবং মো. আবু ছিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিবকে ছিনিয়ে নেন তাঁদের কয়েকজন সহযোগী। ঘটনা সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, একটি মামলায় শুনানি শেষে আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে সহযোগীরা হাজতখানা পুলিশের চোখে স্প্রে ছিটিয়ে, কিল-ঘুষি মেরে মইনুল হাসান শামীম ও মো. আবু ছিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেন। এরপর তাঁরা দুটি মোটরসাইকেলে রায়সাহেব বাজার মোড়ের দিকে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, এটি (জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়া) তো খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। যারা ছিনিয়ে নিয়েছে, তারা খুবই প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে বলে মনে হয়। আর যে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা হয়তো এতটা সতর্ক ছিলেন না। এখন সরকারপক্ষ থেকে চেষ্টা করছে তাদের (পালিয়ে যাওয়া জঙ্গি) ধরতে। দেশে আইনের শাসন বহাল রাখার জন্য দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের নীতির কথা অনেক আগে থেকে শুনেছে আসছি। তো এসব ব্যাপারে সরকার ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের আরও বেশি সতর্ক হওয়া দরকার।

পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর সারা দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ (সর্বোচ্চ সতর্কতা) জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান।

এদিকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।