মেলা দেখানোর কথা বলে ৭ বছরের শিশুকে অপহরণ, ১২ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

আদালতপ্রতীকী ছবি

এক যুগ আগে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মেলা দেখানোর কথা বলে সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের মামলায় ইমাম হোসেন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ইমাম হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে তা ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় ইমাম হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের সাত বছর বয়সী ওই কন্যাশিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে বান্ধবীদের সঙ্গে খেলছিল। ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ইমাম হোসেনসহ তিন-চারজন নদীর পাড়ে মেলা দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যান।

পরে তাঁরা শিশুটিকে কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগের কাশবনে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং ইমাম হোসেনকে আটক করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ৩০ নভেম্বর ইমাম হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল রঞ্জন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত ইমাম হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ রায় ঘোষণা করেন।