জনপ্রতিনিধিকে ‘ইচ্ছেমতো’ বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকারও

  • আইনে সংশোধনী আনার আগে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের স্পষ্ট শর্ত ছিল।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ও ‘জনস্বার্থে’ অপসারণের সুযোগ তৈরি করা হয়।

‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জনস্বার্থে’ স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটার অপব্যবহারের আশঙ্কা আছে এবং তা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ‘ইচ্ছেমতো বরখাস্তের’ সুযোগ তৈরি করবে। এটা নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতির বিপরীত।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে এই সুযোগ তৈরি করেছিল। কারণ, তখন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়া তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার থেকে বিদায় করার সিদ্ধান্ত ছিল।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ ও উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ জারি হয়। এতে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সুযোগ তৈরি করা হয়। যদিও বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি সরকারের হাতে দেওয়া হয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। এই কমিটি ১১৭টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল করা ও ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে, অর্থাৎ এই ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে।

আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারির পর ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র, ৬০টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেদিন পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের এই চার স্তরে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৭৬ জন জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ করা অধ্যাদেশ রেখে দিচ্ছে বিএনপি। যদিও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার–সম্পর্কিত অধ্যাদেশ তারা রাখছে না।

চারটি অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, আইনের অন্যান্য ধারার ওপর প্রাধান্য দিয়ে (যা কিছুই থাকুক না কেন) সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়। ফলে আগের মতো নির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যাঁকে খুশি তাঁকে, যখন খুশি তখন অপসারণের পথ খুলে যায়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। এই কমিটি ১১৭টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল করা ও ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে, অর্থাৎ এই ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি, দুদকসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ।

বরখাস্ত যদি আইনসিদ্ধ হয়, তাহলে আমরা বরখাস্ত করব। আর যদি আইন পরিপন্থী হয়, সে ক্ষেত্রে যাঁকে বরখাস্ত করা হবে, তিনি আদালতে যেতে পারবেন। সমস্যা নেই
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

যেসব অধ্যাদেশ বিএনপি রেখে দিচ্ছে বা আইন করার সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের ‘ইচ্ছেমতো’ বরখাস্তের সুযোগ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল শনিবার জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে আইন আকারে উত্থাপনের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশের বরখাস্তকরণ–সম্পর্কিত ধারাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলা হচ্ছে। তারপরও তা রাখা হচ্ছে কেন, জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বরখাস্ত যদি আইনসিদ্ধ হয়, তাহলে আমরা বরখাস্ত করব। আর যদি আইন পরিপন্থী হয়, সে ক্ষেত্রে যাঁকে বরখাস্ত করা হবে, তিনি আদালতে যেতে পারবেন। সমস্যা নেই।’

জনগণই ভোট দিয়ে সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড কমিশনার ও মেয়র নির্বাচিত করেন। এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খবরদারি’ থাকার কথা নয়। কিন্তু সরকারগুলো সব সময় এ খবরদারি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

স্থানীয় সরকার কত

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পাঁচটি—ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন। দেশে ৪ হাজার ৫৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ (পার্বত্য তিন জেলা বাদে), ৩৩০টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। স্থানীয় সরকার হলো স্থানীয় শাসনব্যবস্থা, যা স্থানীয় জনগণের সেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে। যেমন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাজ হলো এই নগরে বসবাসকারী মানুষের সমস্যা সমাধান। সে জন্য তারা করও আদায় করে।

জনগণই ভোট দিয়ে সিটি করপোরেশনে ওয়ার্ড কমিশনার ও মেয়র নির্বাচিত করেন। এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খবরদারি’ থাকার কথা নয়। কিন্তু সরকারগুলো সব সময় এ খবরদারি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের “ইচ্ছেমতো” সুযোগ রাখা দুঃখজনক। জনগণের বিপুল সমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের কাছ থেকে আরও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘স্থানীয় সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য একটি কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন সময়ে সাতটি কমিশন ও কমিটি গঠিত হলেও সেসব কমিশন এবং কমিটির সুপারিশ কখনোই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।’ উল্লেখ্য, এই কমিশনের সুপারিশও তেমন একটা বাস্তবায়িত হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো সরকারই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে জনগণের প্রয়োজনীয় একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে দেয়নি; বরং চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে। তারা স্থানীয় সরকারকে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের একটি “ইনস্ট্রুমেন্ট” (হাতিয়ার) হিসেবে দেখতে চেয়েছে। সেই প্রচেষ্টার বিপরীত কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের “ইচ্ছেমতো” সুযোগ রাখা দুঃখজনক। জনগণের বিপুল সমর্থন পেয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের কাছ থেকে আরও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।’

আইনে আগে কী ছিল

স্থানীয় সরকারের আইনে সংশোধনী আনার আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের স্পষ্ট শর্ত ছিল। সেখানে কোনো প্রতিনিধি যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া টানা তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে অপসারণের সুযোগ ছিল। রাষ্ট্র বা পরিষদের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া যেত। নৈতিক স্খলনের অপরাধে আদালতে দণ্ডিত হলে পদ হারানোর বিধান ছিল।

তখনকার বিধান অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা, অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলেও অপসারণ সম্ভব ছিল। নির্বাচনের পর অযোগ্যতা প্রমাণিত হলেও একই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। বার্ষিক নির্ধারিত সভায় উপস্থিত না থাকা বা সভা আয়োজন না করাও অপসারণের কারণ ছিল। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য দিলে ছয় মাসের মধ্যে তা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

এ ছাড়া কাউন্সিলর বা সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কোনো জনপ্রতিনিধিকে অপসারণের সুযোগ ছিল। কারও বিরুদ্ধে অপসারণপ্রক্রিয়া শুরু হলে বা ফৌজদারি মামলায় আদালত অভিযোগ গ্রহণ করলে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার বিধানও ছিল, অর্থাৎ আগে অপসারণ ছিল প্রক্রিয়াভিত্তিক ও শর্তসাপেক্ষ। এরপরও অতীতে বিরোধী দলের স্থানীয় প্রতিনিধিদের অপসারণের অসংখ্য নজির রয়েছে। তা নিয়ে বিতর্কও ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বরখাস্ত করার সুযোগ আরও বাড়ানো হয় এবং তা বিএনপি সরকার রেখে দিচ্ছে। যদিও বিএনপি ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখা’র ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

৩১ দফার ২১ নম্বর দফা হলো, ‘বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি স্বশাসিত ও ক্ষমতাবান করা’। এতে মৃত্যুজনিত কিংবা আদালতের আদেশে পদ শূন্য না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ না করা এবং আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশ বলে বরখাস্ত বা অপসারণ না করার কথা বলা হয়। ইশতেহারেও বিএনপি একই কথা বলেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অপসারিত হওয়া মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জাসদের জেলা আহ্বায়ক মো. শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, মানুষ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেন। সেই জনপ্রতিনিধিকে বিনা দোষে একটি আদেশ দিয়ে অপসারণ করা অবৈধ। মানুষের রায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এমন খবরদারি বন্ধ করতে হবে।

আমলানির্ভরতা

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা স্থানীয় সরকারের চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশেই জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। বিধান অনুযায়ী, সেই প্রশাসক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। প্রয়োজনে প্রশাসকের সহায়তায় কমিটিও গঠন করতে পারবে সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে প্রায় সব সিটি করপোরেশনে অতিরিক্ত সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা পরিষদে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও ডিসিদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন ইউএনওরা। পৌরসভার দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলায় কর্মরত স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারদের (ভূমি)। ফলে স্থানীয় সরকারে আমলাতান্ত্রিক খবরদারি বেড়ে যায় বলে মত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

বিএনপি সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যে ৫৬টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। রাজধানীর ২টিসহ দেশের ১১ সিটি করপোরেশনেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই বিএনপির নেতা। স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানগুলোয় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। পাশাপাশি তারা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।

‘এই বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’

দেশের সংবিধানে ৩১ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।’

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণসংক্রান্ত মামলা নিয়ে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম মাহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একজন সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে অপসারণের এই বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এভাবে অপসারণের ক্ষমতা রেখে দিলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে জনগণের অংশগ্রহণ ও ভোটের ওপর আস্থাও কমে যেতে পারে।