ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার
অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও র্যাফল ড্রর পুরস্কার প্রদান
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে প্রয়োজন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। কোন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিশুদের কীভাবে শিক্ষা দিচ্ছে, কোথায় গেলে সন্তানের ভালো ভবিষ্যতের পথ তৈরি হবে, সে বিষয়ে তথ্য অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরার জন্য আয়োজন করা হয় ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার ২০২৬’।
ব্রিটিশ কাউন্সিল ও প্রথম আলো ডটকম–এর আয়োজনে ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত অনলাইনে প্রথমবারের মতো এই ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ১০ দিনব্যাপী এই অনলাইন ফেয়ারের পাশাপাশি ২ মে রাজধানীর গুলশানের শুটিং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় একদিনের অফলাইন আয়োজন।
ফেয়ার চলাকালে englishmediumadmissionfair.com ওয়েবসাইটে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি ভিজিটর এবং ৫৫০-এর বেশি লিড ও রেজিস্ট্রেশন হয়। এ ছাড়া দিনব্যাপী অফলাইন আয়োজনে ছিল আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি।
আজ (সোমবার, ৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ফেয়ারের পৃষ্ঠপোষক এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ব্রিটিশ কাউন্সিল, সিএইচএস এডুকেশন, প্রাইম ব্যাংক, ব্রাদার্স ফার্নিচারসহ ১৭টি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মতবিনিময়ের পাশাপাশি ফেয়ারের র্যাফল ড্রর তিন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার এবং পৃষ্ঠপোষক ও অংশীদার স্কুলগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
প্রথম আলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ ও অংশীদারদের অভিজ্ঞতা
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাডমিশন ফেয়ার নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ফেয়ারের সার্বিক বিষয় এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রথম আলোর যৌথ কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান।
জাবেদ সুলতান বলেন, ‘প্রথম আলো শুধু একটি পত্রিকাই নয়, এর পাশাপাশি বছরজুড়ে আমাদের নানা রকম কার্যক্রম ও উদ্যোগ থাকে। বাংলা মাধ্যমের স্কুলগুলোর সঙ্গে প্রথম আলোর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর সঙ্গে এই সম্পৃক্ততা আমরা আরও বাড়াতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘অনেক অভিভাবকের কাছেই সন্তানের জন্য উপযুক্ত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল নির্বাচন করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। এই ফেয়ারের মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে দেশসেরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও আমরা নিয়মিতভাবে আয়োজনটি করতে চাই।’
এরপর ফেয়ারে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা, আয়োজনের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন অনুষ্ঠানে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর তাহনী ইয়াসমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রথম আলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব ছাড়া এতগুলো স্কুলকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আরও কার্যকর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।’
সিএইচএস এডুকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘স্কুল পর্যায় শেষে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যায়। তাদের সে যাত্রায় আমরা সহযোগিতা করি। প্রথম আলো ও ব্রিটিশ কাউন্সিলকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।’
ব্রাদার্স ফার্নিচারের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক শরিফুজ্জামান সরকার বলেন, ‘ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া শিক্ষার্থীদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিএসের মতো সরকারি চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আরও কাজ করা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে আসা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর প্রতিনিধিরা তাঁদের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘প্রতি মাসের তৃতীয় শনিবার কিশোর আলোর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সভা হয়। আপনারা চাইলে সেখানে আপনাদের শিক্ষার্থীদের পাঠাতে পারেন। এ ছাড়া আমরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে তারুণ্যের উৎসবসহ নানা আয়োজন করি। আপনারা চাইলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকেও এসব আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাংলা শেখার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রথম আলোর সাপ্তাহিক ফিচার পাতা ‘গোল্লাছুট’–এ লেখা–আঁকা পাঠানো এবং বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে অনুরোধ করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের।
প্রথম আলোর হেড অব ইংলিশ অনলাইন আয়েশা কবির বলেন, ‘বাংলা ভাষা শিখতে হবে, দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হবে। আপনাদের স্কুলের কোনো সমস্যা বা শিক্ষার্থীদের কোনো বিষয় আমাদের জানাতে পারেন। আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করব।’
অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ বিভাগের কার্যক্রম এবং সেগুলোর সঙ্গে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার সুযোগ নিয়ে কথা বলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মাসিক ম্যাগাজিন ‘বিজ্ঞানচিন্তা’র নির্বাহী সম্পাদক আবুল বাসার, ‘কিশোর আলো’র নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত, সহকারী বার্তা সম্পাদক (শিক্ষা, চাকরি, নাগরিক সংবাদ ও দূর পরবাস) রাশেদুল আলম রাসেল, সাপ্তাহিক সাময়িকী ‘গোল্লাছুট’–এর বিভাগীয় সম্পাদক মাহফুজ রহমান, ‘স্বপ্ন নিয়ে’র বিভাগীয় সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ এবং ‘প্রথমা ডটকম’–এর সমন্বয়ক রাসেল রায়হান।
ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে চান তাঁরা
প্রোজেক্ট হেডওয়ে গ্রামার স্কুল রাজশাহীর ফাউন্ডার প্রিন্সিপাল ইসতিয়াক মিলন পল বলেন, ‘ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাও যেন ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারেন, সে জন্য এ ধরনের আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।’
রংপুরের নর্থ ওয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল আবু হেনা মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘সুদূর রংপুর থেকে আমরা ঢাকায় এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছি। কারণ, আমরা চাই সারা দেশের মানুষ আমাদের স্কুল সম্পর্কে জানুক। ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও অভিভাবকদের উচিত সন্তানের শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়া।’
নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল মরিয়ম নূর ইউনুস বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। আমরা মনে করি, শিক্ষার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও প্রথম আলোর এ ধরনের উদ্যোগে একসঙ্গে থাকতে চাই।’
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল নাজাহ্ সালাওয়াত বলেন, ‘আমরা ভাবিনি, এই উদ্যোগে এতটা সাড়া পাব। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আমাদের সত্যিই অনুপ্রাণিত করেছে।’
র্যাফল ড্রর পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান
মতবিনিময় পর্ব শেষে র্যাফল ড্র বিজয়ী তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রথম পুরস্কার একটি বুকশেলফ পেয়েছেন আজহারুল হক। দ্বিতীয় পুরস্কার একটি সুইভেল চেয়ার পেয়েছেন সাব্বির এইচ রহমান এবং লাখি সুলতানা তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন একটি রিডিং টেবিল। পুরস্কারগুলো দেওয়া হয় ব্রাদার্স ফার্নিচারের সৌজন্যে।
বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার এ বি এম জাবেদ সুলতান, ব্রাদার্স ফার্নিচারের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের পরিচালক শরিফুজ্জামান সরকার এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর তাহনী ইয়াসমিন। এরপর ফেয়ারের পৃষ্ঠপোষক ও অংশগ্রহণকারী স্কুলের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার শেখ নাসির হোসেন, প্রথম আলোর ডিজিটাল মার্কেটিং লিড মেহবুব জাবেদ, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিটাল কনটেন্ট) খায়রুল বাবুই, সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বিপাশা বালাসহ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর উপব্যবস্থাপক (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) বিবর্ধন রায় ইমন।