নিরাপত্তাহীনতাসহ তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে: মালিক সমিতি
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, সারা দেশের পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। বর্তমানে তেল কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল পাম্পগুলো পাচ্ছে, তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পেট্রলপাম্পের কর্মীদের সঙ্গে ক্রেতাদের কথা–কাটাকাটি, গন্ডগোল হচ্ছে। পেট্রলপাম্পের কর্মীরা আর পেরে উঠছেন না। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, নিরাপত্তাহীনতাসহ তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রলপাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গতকাল রোববার রাতে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলা হয়। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল প্রথম আলোকে বলেন, ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যই তাঁদের সংগঠনের বর্তমান অবস্থান।
পোস্টে বলা হয়, এখন বাস্তবতা এমন, দেশে যে কোটি কোটি মোটরসাইকেলচালক বা ব্যবহারকারী আছেন, তাঁরা তেল নিতে পাম্পে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত, বিরক্ত ও তিক্ত হয়ে পড়ছেন। এই বিরক্ত ক্রেতাদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি, গন্ডগোল করতে করতে পাম্পকর্মীরা আর পেরে উঠছেন না। আসলে এভাবে বিরামহীন দায়িত্ব পালন করার অভ্যাসও তাঁদের নেই।
সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল প্রথম আলোকে বলেন, ডিপো থেকে পাম্পগুলোতে নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে তা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে কোথাও পাম্প তেল পাচ্ছে না। আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কম পাচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
মোটরসাইকেলের তেলের জন্য অস্বাভাবিক চাহিদা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক পাম্পে ভিড় দেখলে অন্যরাও তেল নিতে ছুটে আসছেন। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে।বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্রাহকেরা তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন, যা সংঘর্ষের কারণ হচ্ছে।
পাম্পে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ নাকচ করেন সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। তিনি বলেন, কোনো পাম্পেরই তেল ধরে রাখার সক্ষমতা নেই। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংস্থার নজরদারিও রয়েছে। চাহিদা না কমলে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাম্পগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের দাবি জানান সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। তিনি বলেন, এতে শৃঙ্খলা ফিরবে, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমবে।