হাতিয়া থেকে ঢাকা, হামের উপসর্গ নিয়ে তিন হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ভর্তি হলেন ৪০ বছরের বাবুল
হাতিয়া থেকে ঢাকায় এসে তিন হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে এক হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৪০ বছরের বাবুল হোসেন। সঙ্গে ছোট ভাই, স্ত্রী ও দুই ছেলে। ছোটটির বয়স তিন মাস।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে দেখা হয় বাবুল হোসেনের সঙ্গে। তখন নিচতলায় বাইরে একটি বেঞ্চে বসে আছেন বাবুল। সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা।
বাবুলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ১০ থেকে ১২ দিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। গ্রাম্য চিকিৎসক ওষুধ দেন। এরপর সুস্থ না হওয়ায় হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বাবুলকে। স্ত্রী বলেন, ‘সেখানে ডাক্তারে পরীক্ষা করে কইছে হাম হইছে। ঢাকায় নিয়ে আসতে। আইজগা হাসপাতাল নিয়ে আইছি। এখন তিনটা হাসপাতাল ঘুরলাম, কেউ ভর্তি নেয় না। বলে, সিট খালি নাই।’ হাতিয়া থেকে লঞ্চে অনেক কষ্ট করে বাবুল হোসেনকে নিয়ে এসেছেন বলে জানালেন স্ত্রী। সঙ্গে ১২ বছরের সাইফুল ইসলাম ও তিন মাসের শিশু মো. রনিও ছিল।
বাবুলের ছোট ভাই বাবলু জানান, তাঁরা প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে ভর্তি নেয়নি। তাদের বলা হয়, মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে যেতে। সেখান থেকে পাঠানো হয় ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে। এখানে এসে সকাল ৯টা থেকে বসে আছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সিট খালি নেই। যদি সিট খালি হয়, তাহলে ভর্তি হতে পারবেন।
বাবলু বলেন, ‘আমরা কোনো দিন ঢাকা আসিনি, কোনো কিছু চিনিও না। কোডায় যাবো, তা–ও বুঝতেছি না। দুই হাসপাতাল থেকে ঘুরি আইছি। ওখান থেকে এখানে পাঠায়ছে। এখন কী করমু, এখানে বসি আছি।’
বেলা একটার দিকে হাসপাতালের ভর্তি বিভাগে গিয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক ফজলে রাব্বি জানান, সিট খালি না থাকায় রোগীকে ভর্তি নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘রোগী দেখেছি, প্রাথমিকভাবে দেখে মনে হয়েছে, উনার হাম হয়েছে। তবে আমাদের এখানে এখন বয়স্কদের সিট খালি নেই। সিট খালি হলে ভর্তি নিতে পারব। আজ হয়তো সিট খালি হতে পারে, এ জন্য ওনাদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলেছি।’
কোলের ৩ মাসের শিশুকে নিয়েও চিন্তিত মা জেসমিন আক্তার। বললেন, ‘শুনছি, এখানে নাকি সব হামের শিশু ভর্তি। এখন তো বাচ্ছাটারে নিয়েও ভয়, যদি আবার ওর কিছু হয়।’
বেলা দুইটার কিছু পর বাবুল হোসেন ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি হন।