বিবির দরগায় মানুষের ঠাঁই
লালসালু মোড়া বট বা অশ্বত্থগাছের নিচে মানতের ফুল, নিভন্ত আগরবাতি আর গলে যাওয়া মোম। দেবী বা পীরের থান নামে পরিচিত এমন মানতের বৃক্ষ বাংলার প্রায় সব গ্রামেই এখনো দেখা যায়। ভারতের শিল্পী আনখ সমুদ্দুরের গ্রামে সেই বৃক্ষ বিবির দরগা বলে পরিচিত। গ্রামের মানুষের সরল বিশ্বাস আর মনোবাসনা নিবেদনের এই স্থানকে ঘিরে অনাখের খণ্ড খণ্ড দৃশ্যচিত্র। যেখানে প্রাত্যহিকতার হাত ধরে আসে স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় চট্টগ্রামের খুলশীর চিত্রভাষা আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয়েছে শিল্পী আনখ সমুদ্দুরের চার দিনব্যাপী একক চিত্র প্রদর্শনী। ‘বিবির দরগা’ শিরোনামে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গণসংগীতশিল্পী কফিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী ও অধ্যাপক ঢালী আল মামুন। লেখক মাহমুদ আলমের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য দেন চিত্রভাষা গ্যালারির পরিচালক মইনুল আলম।
পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা আনখ সমুদ্দুর অলংকরণশিল্পী হিসেবে যুক্ত আছেন পিপলস আর্কাইভ অব রুরাল ইন্ডিয়ায়। তবে তিনি মূলত সমাজবিজ্ঞানী ও গবেষক। ‘বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন বিশ্ব’ শিরোনামে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে পিএইচডি করছেন এই তরুণ শিল্পী। প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া নানা মাধ্যমে আঁকা শিল্পীর ৫০টি শিল্পকর্মেও তাই প্রকৃতি ও মানুষের পাশাপাশি রাজনীতিও সমানভাবে উপস্থিত।
চার থেকে পাঁচ বছর ধরে আঁকা ছবি নিয়ে অনাখের এই প্রদর্শনী। আঁকাআঁকির প্রেক্ষাপট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত শৈশবের গ্রাম আর গ্রামের মানুষ নিয়ে ভাবনার ফল এসব ছবি। গবেষণাকাজের ফাঁকে যখন মনে হলো যথেষ্ট বলতে পারেননি, তখনই ছবি এঁকেছেন। মানুষের জীবন ঘিরে থাকা টুকরা টুকরা কাহিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আর সেসব গল্পের কোনোটাই রাজনীতির বাইরে নয়।
উদ্বোধনী পর্বে শিল্পী ঢালী আল মামুন ও কফিল আহমেদের কথায়ও সে প্রসঙ্গ এসেছে। ঢালী আল মামুন বলেন, আনখের কাজে সুর, সাহিত্য, শিল্প, রাজনীতি সবই আছে। কিন্তু তিনি মুখ্য করে তুলেছেন মানুষকে। সবার মধে৵ দাঁড়িয়ে মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার কথাই বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশে অনাখের এটাই প্রথম প্রদর্শনী। আর এই প্রদর্শনীতে তাঁর সঙ্গে এসেছেন ভারতীয় শিল্পী ও লেখক মৌসুমী ভৌমিক। আর প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন শনিবার ‘শিল্প ও রাজনীতি: এই সময়ের বাস্তবতা’ শিরোনামে আলাপ ও আড্ডায় অনাখ সমুদ্দুরের সঙ্গে থাকছেন মৌসুমী ভৌমিকও। রোববার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা প্রদর্শনীটি চলবে।