কিশোর-কিশোরী ক্লাবের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. লিয়াকত আলী আজ প্রথম আলোকে নাশতা আবার শুরু হওয়ার বিষয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই প্রকল্পটি পরিচালনা করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।

গত ১৯ অক্টোবর ‘ব্যয় কমাতে শিশুদের নাশতা বন্ধ’ শিরোনামে প্রথম আলো প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশের এক দিন পর ২০ অক্টোবর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর নিজেদের ওয়েবসাইটে অর্ধেক বরাদ্দ দিয়ে অর্থাৎ জনপ্রতি ১৫ টাকা করে নভেম্বর থেকে নাশতা চালু করা হবে বলে জানায়। তা নিয়ে ‘শিশুদের নাশতা বহাল হচ্ছে, তবে অর্ধেক বরাদ্দেই’ শিরোনামে ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো।

সারা দেশে ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন ও ৩৩০টি পৌরসভার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোর–কিশোরী ক্লাব পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন করে কিশোর-কিশোরী সদস্য রয়েছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত আবৃত্তি, গান ও কারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রান্তিক কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সক্ষম করার বিষয়ে সচেতন করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। ৫৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত।

নাশতায় ছিল বিস্কুট, উপস্থিতি বেড়েছে

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার আজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর অধীনে ১২টি ইউনিয়নের ১২টি কিশোর–কিশোরী ক্লাবের ৩৬০ জন সদস্যের জন্য নাশতা কিনে পাঠানো হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ১৫ টাকা বরাদ্দের মধ্যে আজ শুক্রবার ও কাল শনিবারের জন্য বিস্কুট ও কেক কেনা হয়েছে।

আজ নাশতায় বিস্কুটের প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল বলে প্রথম আলোকে জানান সাতক্ষীরার দেবহাটা ও সদর উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার করবী সুলতানা। তিনি জানান, কাল কেক দেওয়া হবে।

‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন’ প্রকল্পের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ছিল জনপ্রতি ৩০ টাকা। গত জুলাই থেকে শিশুদের নাশতার বরাদ্দ অর্ধেক করা হয় এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শিশুদের নাশতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৩০ টাকা বরাদ্দ থাকার সময়ে শিশুদের মৌসুমি ফল, খেজুর, কেক, দুধ, পাউরুটি দেওয়া হতো। জুলাই মাস থেকে বরাদ্দ অর্ধেক কমে যাওয়ায় ফল বাদ দিয়ে শুধু দুধ-পাউরুটিতে নেমে আসে নাশতা। পরে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। নাশতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্লাবগুলোতে শিশুদের আসার সংখ্যাও কমে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। কোনো ক্লাবে উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে ১৫ জন, কোনোটায় ৫–৭ জনে নেমে আসে।

আজ কিশোর–কিশোরীদের উপস্থিতি কেমন ছিল, জানতে চাইলে করবী সুলতানা বলেন, তাঁর দায়িত্বে থাকা ২০টি ক্লাবে নাশতা বন্ধ থাকার সময়ে উপস্থিতির সংখ্যা ১২ থেকে ১৫ জনের মতো ছিল। কোনো কোনোটিতে ৫ জনও ছিল। আজ ক্লাবগুলোতে কিশোর–কিশোরীদের উপস্থিতি বেড়ে গড়ে ২০ জনের মতো ছিল।  

নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ৪৪টি কিশোর–কিশোরী ক্লাব আছে। কিশোর–কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের জেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ক্লাবগুলোতে নাশতা বন্ধ থাকার সময়ে ১০–১২ বছরের শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কম গিয়েছিল। কারণ, ছোট শিশুদের কাছে নাশতার একটি আকর্ষণ আছে। আজ নাশতা দেওয়া হবে, সেই তথ্য আগেই প্রচার করা হয়েছে। উপস্থিতি এতে বেড়েছে। তিনি জানান, তিনি আজ দুটি ক্লাবে খোঁজ করে দেখেছেন, একটিতে ২৬ জন ও অপরটিতে ২৭ জন উপস্থিত ছিল। আগের সপ্তাহে ওই দুটি ক্লাবে উপস্থিতি ২০–২১ জনের মতো ছিল। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের ৪৪টি ক্লাবে আজ ভালো মানের বিস্কুটের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে।