রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় কর্মরত সাংবাদিকদের পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা। এ সময় তাঁরা সাংবাদিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। অন্যথায় পুলিশের সব আয়োজন বয়কটের হুঁশিয়ারি দেন।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করেন সাংবাদিকেরা। মানববন্ধনের আয়োজন করেন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) ও ঢাকায় কর্মরত সাংবাদিকেরা।
গতকাল শুক্রবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ওই সংঘর্ষের সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হন দৈনিক যুগান্তরের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আবু সালেহ মূসা। তিনি বলেন, ‘পুলিশ যখন আন্দোলনকারীদের পেটাতে গিয়ে ফুটপাতে থাকা সাধারণ পথচারীদের মারধর করছিল, তখন আমি ফেসবুক লাইভে ছিলাম। এ সময় আমাকে ফোনে লাইভে কথা বলতে দেখে এক পুলিশ সদস্য হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তখন আমার হাত থেকে ফোন পড়ে যায়। যখন আমি ফোন তুলতে নিচু হই, তখন একসঙ্গে চার থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্য আমাকে পেছন থেকে আঘাত করে।’
ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকবার পুলিশের মারধরের শিকার হন সাংবাদিকেরা। এতে যমুনা টেলিভিশনের একজন সাংবাদিকসহ ২০ জনের বেশি সাংবাদিক আহত হন বলে জানিয়েছে এমআরএ।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিবেদক আলী আজগর বলেন, ‘আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি যে এভাবে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে মারা হয়, তা–ও অহেতুক। কোনো সাংবাদিক যদি সেখানে ডিস্টার্ব করত, ঝামেলা করত; তখন তাকে পিটিয়ে সরিয়ে দিলে সেটি হয়তো মানা যেত। গতকাল পুলিশের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়েছে, তাঁরা স্পেশালি কোনো কিছু হাইড (গোপন) করার জন্য এটা করছে। এই পুলিশদের কাছে আমরা জানতে চাই যে তোমরা কী হাইড করার জন্য সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে চাও? তোমরা কী লুকাতে চাও জাতির কাছে, আমাদের কাছে স্পষ্ট করো। সাংবাদিকদেরকে এভাবে ফেলনা ভাবলে চলবে না।’
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের বিশেষ প্রতিবেদক কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘গতকালকে আমরা যে চিত্র দেখেছি, এই চিত্র নিয়ে সবাই বলছে যে একজন সাংবাদিককে ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি বলব, এখানে সাংবাদিককে ল্যাং মারা হয় নাই; ল্যাং মারা হয়েছে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে, ল্যাং মারা হয়েছে তথ্য উপদেষ্টাকে। ল্যাং মারা হয়েছে বাংলাদেশের পুলিশপ্রধানকে এবং ল্যাং মারা হয়েছে বাংলাদেশের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকে অর্থাৎ বাংলাদেশকে ল্যাং মারা হয়েছে।’
তথ্য উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে এই সাংবাদিক বলেন, ‘তথ্য উপদেষ্টা আপনি দেশের একজন পরিচিত নাগরিক অধিকারকর্মী। এই ২৪ ঘণ্টা চলে গেল, আমার সাংবাদিক সহকর্মীদের ওপর হামলা হলো, আপনি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? আপনি তো আমাদের দায়িত্বশীল। আপনার দায়িত্ব ছিল আমাদের পক্ষ নিয়ে পুলিশকে জবাবদিহি করা। কিন্তু আপনি কিছুই করেননি, আমরা শুধু এটুকু কথা রেখে গেলাম।’