আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, প্রযুক্তিগত তদন্তে মনে হচ্ছে, ফারদিনকে হত্যার পর চনপাড়াসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। চনপাড়ার সঙ্গে ফারদিন হত্যার যোগসূত্র থাকতে পারে। এ কারণেই চনপাড়াকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের বিষয়টিকে এখনো সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকাকেন্দ্রিক অপরাধী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে চনপাড়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি রায়হানকে গত শনিবার বরিশাল থেকে আটক করেছে র‌্যাব। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফারদিন হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের মতো কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে ফারদিন যেসব এলাকায় গিয়েছিলেন, সেসব এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ফারদিন হত্যায় এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই বলে গতকাল রোববার প্রথম আলোকে জানান ডিবির খিলগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহিদুর রহমান।

৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪ নভেম্বর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবার করা মামলায় আয়াতুল্লাহ বুশরা নামে ফারদিনের এক বন্ধুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

ফারদিন হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। তবে হত্যার রহস্য উন্মোচিত করার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে গতকাল জানান র‌্যাব-১১-এর উপ–অধিনায়ক মেজর সানরিয়া চৌধুরী।

র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, চনপাড়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি রায়হানকে আটকের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চনপাড়ার স্থানীয় লোকজন বলছেন, চনপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত রাশেদুল ইসলামের (সিটি শাহীন নামে পরিচিত) সঙ্গে রায়হানের ঘনিষ্ঠতা ছিল।

গতকাল চনপাড়ার ৪ নম্বর ব্লকে রায়হানের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। নির্মাণাধীন তিনতলা বাসাটি তালাবদ্ধ ছিল। রায়হানের পরিবারের লোকজন কোথায় গেছেন, এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজনও তথ্য দিতে পারেনি। তবে তাঁরা জানান, চনপাড়ার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। বিশেষ করে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সিটি শাহীন নিহত হওয়ার পর কেউ কেউ পুরো পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়েছেন।