অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় জি কে শামীমের রায় ঘোষণা পিছিয়েছে

জি কে শামীমপ্রথম আলো ফাইল ছবি

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম (জি কে শামীম) ও শামীমের মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার নতুন দিন ঠিক করেছেন আদালত।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারকে মো. রবিউল আলম আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী বিল্লাল হোসেন।

জি কে শামীম কারাগারে আছেন। তাঁর মা পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় গত ২২ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। আদালত সেদিন ৩০ জানুয়ারি (আজ বৃহস্পতিবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালত সংশ্লিষ্টসূত্রগুলো বলছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শামীম ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক। ওই মামলায় ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পর জি কে শামীম ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জি কে শামীমকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর অফিসে অভিযান চালিয়ে তাঁর মায়ের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআরের (স্থায়ী আমানত) কাগজপত্র জব্দ করা হয়। ওই টাকার তথ্য জি কে শামীম বা তাঁর মায়ের আয়কর নথিতে দেখানো হয়নি। দুদক বলেছে, আয়েশা আক্তার তাঁর ছেলে জি কে শামীমের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ নিজ নামে রেখে শামীমকে অপরাধে সহায়তা করেছেন।

২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন জি কে শামীম। তাঁর বিরুদ্ধেই অস্ত্র, মাদক ও অর্থ পাচার আইনে পৃথক মামলা করে র‍্যাব।

মামলার কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, জি কে শামীমের কার্যালয়ে অভিযান চলার সময় ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলারও জব্দ করে র‍্যাব। ওই টাকারও কোনো উৎস পায়নি দুদক। সব মিলিয়ে জি কে শামীমের ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫১ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

অর্থ পাচার মামলার অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৮০টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৩৭ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে জি কে শামীমের। এ ছাড়া ঢাকায় দুটি বাড়িসহ প্রায় ৫২ কাঠা জমির মালিক তিনি। এসবের দাম ৪১ কোটি টাকা। জি কে শামীম তাঁর অস্ত্রধারী সাত দেহরক্ষীকে দিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টেন্ডারবাজি, বাস টার্মিনাল ও গরুর হাটে চাঁদাবাজি করে এসব অর্থ-সম্পদ অর্জন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জি কে শামীম ও তাঁর সাত দেহরক্ষীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। অন্যদিকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই জি কে শামীমকে ১০ বছর এবং তাঁর সাত দেহরক্ষীর প্রত্যেককে চার বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০।