গত ২৯ অক্টোবর অভিযানের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বিমানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু রওনা হন। ৩১ অক্টোবর কাঠমান্ডু থেকে ডোলমা খাংয়ের উদ্দেশে রওনা হন শায়লা বীথি। সেদিন চেট চেট নামের একটি এলাকা থেকে ট্রেকিং শুরু হয়। শায়লা বীথির সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় এক শেরপা। তিন ঘণ্টার ট্রেকিংয়ের পর তাঁরা সিমিগাঁও নামের একটি গ্রামে পৌঁছান। পরদিন সকালে আবারও শুরু করেন ট্রেকিং। পরের চার দিনে চুশা, চোডার গ্রাম হয়ে পৌঁছে যান বেদিং নামের একটি গ্রামে। সেখানেই ডোলমা খাং পর্বতের বেজক্যাম্প অবস্থিত। গতকাল হাইক্যাম্প হয়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ডোলমা খাংয়ের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়ান শায়লা বীথি। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে শুরু হয় নামার পালা। সেদিন তিনি ডংখাং নামের একটি গ্রামে ফেরেন। আজ তিনি সিমিগাঁও ফেরেন।

শায়লা বীথি বলেন, ডোলমা খাং পর্বতে এখন পর্যন্ত খুব বেশি অভিযান পরিচালনা হয়নি। সে কারণে আমাদের জন্য শীর্ষে আরোহণ করা খুবই কঠিন কাজ ছিল। অনেকখানি খাড়া পর্বত বেয়ে উঠতে হয়েছে। চূড়ার আগে খুবই সরু একটা রিজ লাইন পাড়ি দিতে হয়েছে। এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। একটুখানি এদিক–সেদিক হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

শায়লা বীথি আরও বলেন, ‘ডোলমা খাংয়ের শীর্ষে আরোহণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। দেশের পতাকা শীর্ষে তুলে ধরতে পারার মধ্যে অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করে। পর্বতচূড়ায় আমি যুদ্ধবিরোধী বার্তাসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে নিয়ে যাই এবং ছবি তুলি। এসব ছবি যুদ্ধবিরোধী প্রচারে ব্যবহার করব।’

শায়লা বীথি জানান, কাঠমান্ডু ফিরতে আরও দু–এক দিন লেগে যাবে। এরপর সেখান থেকে দেশে ফিরবেন তিনি।

শায়লা বীথির অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে নয়টি পর্বতাভিযান, ট্রেকিং ও ট্রেনিং। তিনি গত বছরের অক্টোবরে হিমালয়ের ৬ হাজার ১৮৯ মিটার উঁচু আইল্যান্ড পর্বতচূড়া জয় করেন।

শায়লা বীথি ২০১৬ সালে ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১৮ সালের মে মাসে তিব্বতের লাকপারি (৭ হাজার ৪৫ মিটার) পর্বতচূড়া জয় করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে হিমালয়ের দুর্গম তাশিলাপচা (৫ হাজার ৭৫৫ মিটার) গিরিপথ পার হন। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০২১ সালের নভেম্বরে হিমালয়ের বিখ্যাত থ্রি-পাস অতিক্রম করেন।

এ ছাড়া শায়লা বীথি ২০১৫ সালে নেপালের মাউন্ট কেয়াজুরির বেজক্যাম্প (১৫ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতা) ট্রেকিং করেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সফলভাবে নেপালের মেরা পর্বতের চূড়ায় (৬ হাজার ৪৭৪ মিটার) ওঠেন।

২০১৭ সালের এপ্রিলে নেপালের থ্রংলা পাস (৫ হাজার ৪১৬ মিটার) অতিক্রম করেন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রথম বাংলাদেশি দলের অংশ হয়ে মানাসলু সার্কিট (৫ হাজার ১০৬ মিটার) সম্পন্ন করেন।