প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা টোল বুথের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। সভা থেকে সেতু বিভাগকে টোল আদায়ের বুথ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় রাজধানীর মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের যানজট কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। উড়ালসড়কটির নিচের সড়ক ব্যবহার উপযোগী করা, অবৈধ পার্কিং সরিয়ে দেওয়া, বাস-ট্রাক থামানো বন্ধ করা ও ব্যবসার মালামাল রাখা বন্ধের সুপারিশ করা হয়।

সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের যানজট কমিয়ে আনতে করা সুপারিশগুলো ইতিমধ্যে সেতু বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেতু বিভাগ এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে।

গত ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। পরদিন ২৬ জুন সকাল থেকে সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হয়।
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে বর্তমানে ৬টি করে মোট ১২টি টোল বুথ আছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য টোল আদায় ও সংরক্ষণের কাজ পেয়েছে কোরিয়া এক্সপ্রেস করপোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। টোল বুথে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ম্যানুয়াল–পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিদিন যানজট তৈরি হচ্ছে।

সেতু বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সেতুর দুই প্রান্তে তিনটি করে টোল বুথ বাড়ানোর সুযোগ আছে। টোল এলাকায় নয়টি করে লেন আছে। যার মধ্যে তিনটি লেন এখন ব্যবহার হয় না। সরকার চাইলে এই তিনটি লেনে বুথ বসিয়ে টোল আদায় করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সেতুর দুই প্রান্তে আরও তিনটি করে বুথ বসানো যাবে। সেই ব্যবস্থা আছে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত টোল বুথ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।
আবুল হোসেন বলেন, আগামী নভেম্বর নাগাদ পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ে আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বুথ বসানো হবে। তখন কয়েক সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা যাবে। ইটিসি বুথ বসানো হলে আর যানজট দেখা যাবে না।

যানজটে ট্যুরিস্ট কোস্টার

প্রতি শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের পদ্মা সেতু দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। গত শুক্রবার এ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগে নিজেদের দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ট্যুরিস্ট কোস্টার যুক্ত করেছে করপোরেশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন করপোরেশনের ভবন থেকে দর্শনার্থীদের নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা চত্বর গিয়ে আবার ঢাকায় আসা হচ্ছে। কিন্তু এ যাত্রার প্রথম দিনই যানজটে পড়তে হয় দর্শনার্থীদের। ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ফেরার সময় জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় তাঁদের প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের উপব্যবস্থাপক (বিপণন ও ভ্রমণ) শেখ মেহদি হাসান প্রথম আলোকে বলেন, দর্শনার্থীদের পদ্মা সেতু ভ্রমণ মোটামুটি ভালোই ছিল। কিন্তু জাজিরা প্রান্তে টোল দিতে গিয়ে যানজটে পড়তে হয়।

ঢাকায় যানজট কমাতে সুপারিশ

পদ্মা সেতু ব্যবহার করে যেসব যানবাহন ঢাকায় ঢুকছে, সেগুলো যাতে সহজে যাতায়াত করতে পারে, যাতে যানজট তৈরি না হয়, সে জন্য আন্তমন্ত্রণালয় সভায় বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।

সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে—যত দ্রুত সম্ভব ইনার রিং রোড ও আউটার রিং রোড বাস্তবায়ন করা। মদনপুর ইন্টারসেকশন উন্নয়ন করা। পঞ্চবটি এলাকায় আরও একটি সেতু নির্মাণ করা। পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনালের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন