গল্প-আড্ডা-গানে কিআর ‘তুমুল ১৩’
কার্টুনিস্ট আহসান হাবিবের কাছে প্রশ্ন ছিল, সবাই আপনাকে ‘বস’ ডাকে কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘সিরিয়াসলি বলে না এত। এটাকে সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নাই।’ জনপ্রিয় কিশোর পত্রিকা কিশোর আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশু–কিশোরেরা অংশগ্রহণ করে। তাদের উদ্দেশে আহসান হাবিব বলেন, ‘তোমরা আসলে আসল বস। আমি বলব, তোমরা যখন বড় হবে, তোমরা আসল বস। আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সভাকক্ষে কিশোর আলোর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান হয়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান, ‘স্বপ্ন হোক আকাশসমান’।
অনুষ্ঠানে ছড়াকার রোমেন রায়হান কিশোর-কিশোরীদের বড় স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। কিশোর আলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে থাকলে তাঁর নিজেরও বয়স কমে যাওয়ার অনুভূতি হয়।
কিশোর আলোর প্রকাশক ও প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান কিশোর-কিশোরীদের নিয়মিত পত্রিকা ও বই পড়ার পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্কুলের পড়াশোনা ঠিকভাবে করতে হবে এবং ভালো ফল করে যেতে হবে। কিশোর আলোর মাধ্যমে পাঠকদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন ও প্রকাশনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিশোর আলোর পক্ষ থেকে তাঁরা কিশোর-কিশোরীদের ভালো চান।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ তাঁর বক্তব্যে বই পড়ার অভ্যাসের মাধ্যমে জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এমনভাবে বই পড়তে হবে, যাতে জ্ঞান ও চিন্তার দিক থেকে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়।
পছন্দের কাজ করতে হবে
কার্টুনিস্ট মেহেদী হক ও নাসরীন সুলতানা মিতু অনুষ্ঠানে আসেন তাঁদের মেয়ে অনুসৃয়া অবনীকে নিয়ে। মেহেদী ও মিতু শিশু–কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন তাদের পছন্দের কাজ করে। জোর করে কোনো কিছু না করে।
টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক শিশু-কিশোরদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও জানার পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, স্বপ্ন বড় করতে হলে নতুন নতুন বিষয় ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে, অর্থাৎ নিজের ‘এক্সপোজার’ বাড়াতে হবে। এর সঙ্গে কৌতূহল ও পরিশ্রম যুক্ত হলে সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের সার্ফার ফাতেমা আক্তারকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যেখানে ফাতেমার অদম্য পথচলা এবং তরুণদের এগিয়ে চলার উৎসাহ গুরুত্ব পায়। তথ্যচিত্রটির পরিচালক আশিক ইবরাহিম শিশু–কিশোরদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা তোমাদের জন্য বানিয়েছি, যেন তোমরা অনুপ্রেরণা পাও।’
প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন বড় হতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কিশোর আলোর এবারের স্লোগান ‘স্বপ্ন হোক আকাশসমান’ প্রসঙ্গে তিনি সার্ফার ফাতেমার গল্প তুলে ধরেন। বলেন, ফাতেমা দেখিয়েছে, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে; স্বপ্ন পূরণের পথে কষ্ট এলেও পরিশ্রম থেকে সরে যাওয়া যাবে না।
কিশোর আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসবে আসে মনিপুর স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়াত্তি। রোবোটিকস নিয়ে কাজ করা এই শিক্ষার্থী কিশোর আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শোনায় তার পথচলার কথা। অনুষ্ঠানে ফুটবলার মোসাম্মাৎ সাগরিকার অদম্য যাত্রা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র সাগরিকা প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এআই নিয়ে কথা বলেন বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদনা দলের সদস্য উচ্ছ্বাস তৌসিফ। কিশোর আলো নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন কিশোর আলোর নির্বাহী সম্পাদক আদনান মুকিত।
গান ও আড্ডা
অনুষ্ঠানে বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে হয় গান ও আড্ডাও। অনুষ্ঠানে আগত শিশু–কিশোরদের গান শোনান গায়িকা ফাতিমা তুয জাহরা ঐশী। ‘স্বপ্ন হোক আকাশের সমান, আলোয় ভরে ওঠে যে প্রাণ’ ও ‘দুষ্টু পোলাপাইন’ গানে তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলায় শিশু-কিশোরেরা। অনুষ্ঠানে জাদু দেখিয়ে মুগ্ধতা ছড়ান জাদুশিল্পী স্বপন দিনার।
দ্য সেকেন্ড স্টুডিওর কার্টুনিস্ট রাকিব রাজ্জাকের অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘বেস্ট শো এভারেস্ট’–এর একটি পর্ব প্রদর্শন করা হয় অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া শিল্পী অনিক সূত্রধরের কণ্ঠে ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’ ও ‘আলো, আলো’ গানে সুর মেলায় কিশোর-কিশোরীরা।
গান, আড্ডা আর বক্তব্যে কিশোর আলোর জন্মদিন উদ্যাপনে কাটা হয় কেক। অনুষ্ঠানে ‘আকাশটা মেঘলা করেছে’ গান গেয়ে শোনান শিল্পী বখতিয়ার হোসেন। আয়োজনের শেষ দিকে হয় সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত। ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ’ গানটির মাধ্যমে শেষ হয় অনুষ্ঠানের। জাহিন যাঈমাহ্ কবির ও আবু তালেব রাফির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছড়াকার রমজান মাহমুদ, কার্টুনিস্ট নাঈমুর রহমান, প্রথম আলোর ডিজিটাল ব্যবসার প্রধান জাবেদ সুলতান পিয়াস।