জাহিদুল হত্যায় মোল্লা শামীমসহ ৫ জন রিমান্ডে
ঢাকার শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম (টিপু) হত্যার অন্যতম আসামি শামীম হোসাইন ওরফে মোল্লা শামীমকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত আজ বুধবার এ আদেশ দেন। আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাহিদুল হত্যার ঘটনায় খিলগাঁও থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় মোল্লা শামীমসহ পাঁচজনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মোল্লা শামীমসহ অন্য আসামিরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে আসছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন আদালত। রিমান্ডপ্রাপ্ত অপর চার আসামি হলেন এহতেশাম উদ্দিন চৌধুরী, সুমন, তৌফিক হাসান ও শরিফুল ইসলাম।
গত ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলিতে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম নিহত হন। সে সময় ঘটনাস্থলে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন ওরফে প্রীতিও (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
পুলিশ ও আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাহিদুল ইসলাম হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোল্লা শামীম। যে মোটরসাইকেলে চড়ে ঘাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলামকে গুলি করেছিলেন, সেটি চালাচ্ছিলেন তিনি। ঘটনার পর তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন।
মোল্লা শামীমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আগে গ্রেপ্তার শুটার মাসুম মোহাম্মদ আদালতে বিস্তারিত তথ্য জানান। তাঁর স্বীকারোক্তির তথ্য বলছে, ছয় বছর আগে মতিঝিলে খুন হওয়া যুবলীগের কর্মী রিজভী হাসান ওরফে বোঁচা বাবুর পরিবারকে আর্থিকসহ নানাভাবে সহযোগিতা করতেন জাহিদুল ইসলাম। সে কারণেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
মাসুম মোহাম্মদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, এক যুগের বেশি সময় আগে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা থেকে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু মোল্লা শামীম। শামীমের মুঠোফোন দিয়ে দুই দফা জাহিদুল হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী সুমন শিকদার ওরফে মুসার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মতিঝিলে ঠিকাদারি ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মুসা। তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। শামীম তাঁকে জানান, জাহিদুল খুনের পরিকল্পনা হয় মতিঝিলের রূপালী ক্লাবে। এই পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিলেন মুসা, মানিক, দামাল, শামীমসহ আরও চার থেকে পাঁচজন। মুসার নির্দেশনায় শামীম জাহিদুল হত্যা মিশনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
অস্ত্র ও মোটরসাইকেল সংগ্রহের বিষয়ে মাসুম মোহাম্মদ জবানবন্দিতে বলেছিলেন, জাহিদুলকে খুন করার আগের দিন সন্ধ্যায় শামীমকে সঙ্গে নিয়ে কমলাপুরের আইসিডির কাছে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী কালো রঙের এক যুবকের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। ওই যুবকের কাছ থেকে শামীম মোটরসাইকেল ও একটি ব্যাগ বুঝে নেন। পরে শামীম মোটরসাইকেল চালানো শুরু করেন। তিনি বসেন পেছনে। পরে তাঁরা চলে আসেন মতিঝিলের এজিবি কলোনির গ্র্যান্ড সুলতান হোটেলের সামনে। তবে শামীমের মুঠোফোনে একটা খুদে বার্তা আসে। তাতে লেখা ছিল, জাহিদুলকে এখানে পাওয়া যাবে না। পরে আবার দুজন মিলে গোড়ান ছাপরা মসজিদের কাছে যান। যে যুবকের কাছ থেকে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল নিয়েছিলেন, তাঁকে সেখানে দেখতে পান। পরে অস্ত্র ও মোটরসাইকেল বুঝিয়ে দিয়ে সেদিনের মতো যে যাঁর বাসায় চলে যান। আবার পরদিন ২৪ মার্চ দুজন কমলাপুরে ওই যুবকের কাছ থেকে মোটরসাইকেল ও অস্ত্র নিয়ে গ্র্যান্ড সুলতান হোটেলের সামনে আসেন।
জাহিদুলকে গুলি করে হত্যার বিবরণ দিতে গিয়ে মাসুম বলেন, তাঁরা সেখানে যাওয়ার পর সাদা রঙের মাইক্রোবাসে চেপে বসেন জাহিদুল। পরে মাইক্রোবাসটিকে অনুসরণ করতে থাকেন তাঁরা। জাহিদুলকে বহনকারী মাইক্রোবাস যখন আমতলা রেললাইন সিগন্যালের কাছে আসে, তখন সেখানে ছিল যানজট। তখন শামীম মোটরসাইকেল চালিয়ে মাইক্রোবাসের ঠিক উল্টো দিকের সড়কে আসেন। তখন তিনি জাহিদুলের কাছে গিয়ে গুলি করেন। পরে আবার শামীমের মোটরসাইকেলে করে গোড়ানে গিয়ে সেই যুবকের কাছে মোটরসাইকেল ও অস্ত্র বুঝিয়ে দেন।