স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা না হলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে অন্যদের তুলনায় অন্তত দুই বছর সময় বেশি লাগে—এই যুক্তি তুলে ধরে স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়সসীমা ৩৪ বছর করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্যথায় দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’ আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়লেও স্বাস্থ্য ক্যাডারে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সাধারণ ক্যাডারের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩২ বছরে উন্নীত করা হলেও চিকিৎসকদের জন্য তা আগের মতোই ৩২ বছর বহাল রয়েছে।
বিষয়টি উল্লেখ করে মানববন্ধনে আদ-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসক ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘অদৃশ্য কারণে ডাক্তারদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এর অবসান চাই।’
বিসিএসে বয়সসীমা ৩৪ করার দাবিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান বারডেমের চিকিৎসক তোফায়েল আহমেদ দিহান। তিনি বলেন, ‘বয়স বৃদ্ধি আমাদের একটি যৌক্তিক দাবি। চব্বিশ-পরবর্তী এই দেশে, তারেক রহমানের এই বাংলাদেশে আমরা মনে করি কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়।’
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, গত জুন মাসে ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের আন্দোলনের পর স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের ছয় দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ৯ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক মো. রোমান সরকার বলেন, প্রায় এক মাস আগে স্বাস্থ্যসচিব চিকিৎসকদের বয়সসীমা বাড়ানোর সুপারিশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তা আমাদের জানা নেই। আমাদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। আমরা জনপ্রশাসন সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায় করতে চাই। কিন্তু দাবি মানা না হলে চিকিৎসক সমাজ জানে কীভাবে অধিকার আদায় করতে হয়। ২০২৩ সালেও আমরা শাহবাগে আন্দোলন করেছি, হামলার শিকার হয়েছি। এবারও প্রয়োজন হলে আরও বড় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’