এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ‘উইন্ডো অন কোরিয়া’ অনুদান পায় আইইউবি। এর অধীনে আইইউবি লাইব্রেরিতে একটি উইন্ডো অন কোরিয়া কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এখানে কোরিয়ার ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রকাশনা ও অডিও ভিজ্যুয়ালের বিশাল সংগ্রহ তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে গত আগস্ট মাসে আইইউবিকে কিং সেজং ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ হস্তান্তর করে কিং সেজং ইনস্টিটিউট ফাউন্ডেশন। এ ইনস্টিটিউটে সরাসরি কোরিয়ান ভাষাভাষীদের কাছে ভাষাটি শেখার সুযোগ থাকছে। আইইউবির শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সর্বসাধারণের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে এ ইনস্টিটিউট ও কর্নার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘উইন্ডো অন কোরিয়া ও কিং সেজং ইনস্টিটিউটে আমাদের শিক্ষার্থীরা কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারবে। এ ছাড়া আমি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত যে এ দুটি প্রতিষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও বেশি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বাড়ানোর আমাদের যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন অনেকটাই সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কিউন বলেন, ‘এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুধু আইইউবির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমি মনে করি এ ধরনের অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও আরও শক্তিশালী ও জোরদার করতে পারি।’

আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘কোরিয়াকে অনেক সময় উন্নয়নের রোল মডেল বলা হয়। একটি দেশের উন্নয়ন পরিক্রমাকে ভালোভাবে বুঝতে হলে সে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞানও জরুরি। আমি মনে করি, উইন্ডো অন কোরিয়া এবং কিং সেজং ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সেটি চমৎকারভাবে করা সম্ভব হবে।’

আইইউবির উপাচার্য তানভীর হাসান বলেন, ‘দেশে এবং বিশেষ করে দেশের বাইরে বৈশ্বিক পর্যায়ে সাফল্য পেতে হলে আমাদের তরুণদের মাতৃভাষা বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরও একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেই প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যেই আইইউবিতে উইন্ডো অন কোরিয়া এবং কিং সেজং ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে শুধু আইইউবির শিক্ষার্থীরাই নয়, সাধারণ জনগণও সরাসরি উপকৃত হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন আইইউবির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, আইইউবির কিং সেজং ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক জাকির হোসেন রাজু এবং কোরিয়ান কমিউনিটি ইন বাংলাদেশ-এর ভাইস চেয়ারম্যান মিলিয়ন পার্ক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শেষ হয় আইইউবির শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী কোরিয়ান তরুণদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।