কাজের দিক থেকে বছরটা আমার ভালো কেটেছে। অনেক দিন পর বড় পর্দায় আমার সিনেমা মুক্তি পেয়েছে (এশা মার্ডার: কর্মফল); প্রশংসিতও হয়েছে। বছরের শেষে আমার অভিনীত আরেকটি সিনেমা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত মাস্টার রটারড্যাম উৎসবে বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন বিভাগে জায়গা পেয়েছে। এ ছাড়া রুবাইয়াত হোসেনের নতুন সিনেমা দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড-এর কাজ শেষ করেছি। এটা হয়তো আরও বড় কোনো উৎসবে যাবে। আমার পর্যবেক্ষণ বলছে, এটা রেহানা মরিয়ম নূর-এর চেয়েও বড় উৎসবে যাবে। সিনেমাটি নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। এখন তানিম নূরের বনলতা এক্সপ্রেস-এর শুটিং করছি; এটা আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে। যতটুকু সাফল্য পেয়েছি, আমি খুশি। আরও দু-একটা কাজের কথা হচ্ছে, হয়তো নির্বাচনের পরে হবে। নিজের সিনেমা ছাড়াও আমি এ বছর হলে গিয়ে বেশির ভাগ আলোচিত সিনেমাই দেখেছি। আমি সাবা দেখে লিখেছিলাম, এ সিনেমার জন্য মেহজাবীনের জাতীয় পুরস্কার পাওয়া উচিত; এত ভালো লেগেছে। দারুণ গল্প, অভিনয় আর নির্মাণ। দেলুপি ও অসাধারণ লেগেছে, এটি দারুণ একটি পলিটিক্যাল স্যাটায়ার। আরেকটা সিনেমা ভালো লেগেছে—বাড়ির নাম শাহানা।
আর দেশের কথা বলতে গেলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমি হতাশ। কারণ, সরকার স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেও ব্যর্থ হয়েছে। এটা আমাকে অনেক পীড়া দিয়েছে; আমরা অনেক আশা করেছিলাম।
নতুন বছরে আমাদের নির্বাচন আছে; আশা করি, একটা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসুক। আমি আশা করব, নতুন সরকার আমাদের হতাশ করবে না। নতুন বছরে ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথা যদি বলি, নিজের জীবনটাকে একটু অন্য রকমভাবে সাজাতে চাই। এটা আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং লাগে। মানুষ বলে ‘নিজেকে বদলানো যায় না’, ‘যার যা স্বভাব, তেমনই থাকে’; কিন্তু নিজেকে পরিবর্তন করা যে সম্ভব, সেটি আমি চেষ্টা করছি, সফলও হয়েছি। আমার যে কষ্টগুলো আছে, সেগুলো থেকে আমি নিজেকে মুক্ত করব। এগুলো দিনের পর দিন আমাকেই কষ্ট দিচ্ছে। মানুষের ওপরে যে ক্ষোভ রাগ, সেগুলো থেকেও আমি নিজেকে মুক্ত করতে চাই। এই অনুশীলন আমি শুরু করেছি ২০২৫ সালে, কিছুটা রপ্ত করেছি; নতুন বছরে আরও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করব। যেন আমি একজন ভালো মানুষ হতে পারি। নিজেকে সংশোধন করতে চাই, সংশোধন করছি। প্রচুর নতুন নতুন জিনিস শিখতে চাই; যেন একটা জায়গায় আটকে না যাই। নিজেকে বদলাচ্ছি, নতুন বছরেও এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
আজমেরী হক বাঁধন: অভিনয়শিল্পী