শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ক্যাম্পেইন, দুই দিনে ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০ কর্মদিবসের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েসের সহযোগিতায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে প্রথম দুই দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অতিরিক্ত হর্ন বাজানোর দায়ে ১৮টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং মোট ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রিন ভয়েস। এতে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগও শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। গ্রিন ভয়েসের দেড় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে যানবাহনে সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো এবং লিফলেট বিতরণ করেন।
গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহছিনা আকতার বানু। তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কেবল আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
মোহছিনা আকতার বানু আরও বলেন, বর্তমানে শব্দদূষণ একটি মারাত্মক পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে। সরকার পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রিন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, শব্দদূষণ শুধু শ্রবণশক্তির ক্ষতি করে না, এটি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে একটি শব্দদূষণমুক্ত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট খলিলুল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. ফজলে এলাহী, প্রকল্পের ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান, গ্রিন ভয়েসের সহসমন্বয়ক শাকিল কবির ও ফাহমিদা নাজনীন।
উদ্বোধনের পর প্রেসক্লাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শব্দদূষণবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও প্রতীকী মাস্ক ব্যবহার করা হয়।
আয়োজকেরা জানান, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর আজিমপুর, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, আগারগাঁও, পরিকল্পনা কমিশন মোড়, শিক্ষা ভবন, জিরো পয়েন্ট, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল মোড়, গুলশান-২ চত্বর ও টিএসসিতে সচেতনতামূলক এই ক্যাম্পেইন চলবে।