মহিউদ্দিনের আসার খবর পেয়ে আগে থেকেই রেলস্টেশনের সামনের কলাপসিবল ফটক (মূল ফটক) আটকে দেন রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। মহিউদ্দিন ওই ফটকের সামনেই বসে পড়েন। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগ দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে মহিউদ্দিন যখন কথা বলছিলেন, তখন সেখানে হাজির হন এম এ সূর্য নামের এক ব্যক্তি৷

ওই ব্যক্তি মহিউদ্দিনকে তাঁর আন্দোলনের বিষয়টি 'পরিষ্কার' করতে বলে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন৷ একপর্যায়ে মহিউদ্দিন বলেন, আপনার ইনটেনশন কী? আপনি কাদের লোক? মহিউদ্দিন ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর নাম এম এ সূর্য। তিনি একজন সাধারণ পাবলিক। মহিউদ্দিনের সহযোগীরা তখন ওই ব্যক্তিকে 'দালাল' আখ্যায়িত করে ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন। তখন পুলিশ সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে নেন। এ সময় মহিউদ্দিন ফটকের সামনে থেকে রাস্তার পাশে এসে সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনের ইস্যুটাকে ধামাচাপা দিতে নতুন ইস্যু তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরপর এম এ সূর্য নামের ওই ব্যক্তিকে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি এম এ সূর্য। আমি সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত আছি। তারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে ফেলেছে। তারা আমাকে মেরেছে।’ পরে রেলওয়ে থানায় আশ্রয় নেন ওই ব্যক্তি।

মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মিথ্যাবাদী ও দুর্নীতিবাজেরা যতই চক্রান্ত করুক না কেন, তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবেই। ওই ব্যক্তি ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করছিলেন। এটা নিশ্চয়ই চক্রান্ত। যৌক্তিক আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন কুচক্রী মহল এক হয়েছে। ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও কমলাপুর রেলওয়ের মূল ফটকের সামনে তাঁর অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।

গত মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার পর ঈদুল আজহার আগে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অনশন শুরু করেন মহিউদ্দিন। ১০ জুলাই ঈদের দিনেও তিনি অবস্থানে ছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকায়নের দাবিতে অনশন করেন তিনি। মহিউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন