দুদকের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বায়েজিদ বোস্তামী চা বোর্ড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক শাহেদ হাসানকে মোট ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া তাঁকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। অপর দিকে তাঁর স্ত্রী রেজিয়া সুলতানাকে ৮ বছর ৬ মাস কারাদণ্ড ও ১ কোটি ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মীর কাশেমকে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর নয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দুদকের আইনজীবী আরও বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে রায় দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই রায়ে তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয় এবং বিচারপ্রক্রিয়া চলা অবস্থায় তিন আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীর সই জাল করে ভুয়া এফডিআর ও ঋণ হিসাবের বিপরীতে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪৭২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ১৯৯৩ সালের ২৮ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এই টাকাগুলো তোলা হয়।

এ ঘটনা ধরা পড়লে ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক চা বোর্ড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আকিকুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে ৯ আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২০০০ সালের ২৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রায় দেন।