ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ ওই প্রতিবেদনে বলেন, ২০১৭ ও ২০২০ সালে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে। এ সময় ইয়াবা জব্দের পরিমাণও বাড়ে। ২০২০ সালের পর ইয়াবা উদ্ধারের পরিমাণ কমে আসে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এ ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে। ২০০৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কত মাদক জব্দ হয়েছে তার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তাঁরা।

তবে ইমতিয়াজ আহমেদ লিখেছেন, এই পরিসংখ্যান কিছুটা বিভ্রান্তিকর। কারণ, এ সময়ে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ক্রিস্টাল মেথের উদ্ধার বাড়ে।

মাদকের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক নিয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ লিখেছেন, মিয়ানমারের শান প্রদেশ থেকে মাদক ইয়াঙ্গুনে আসে। সেখান থেকে সিটওয়ে, মংডু হয়ে কক্সবাজার ও বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় পৌঁছায়। স্থলসীমান্ত বন্ধ হওয়ার পর অবৈধভাবে সাগরপথে মাদক পাচার হতে শুরু করে। কেউ বলতে পারেন, সাগরপথ মাদক পাচারের রুট হয়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করেছে। কারণ, সাগর উপকূলকে সুরক্ষা দিতে হবে। শরণার্থীদের আবাসন হওয়ায় কোস্টাল গার্ড উপকূলে সুরক্ষা দিতে পারেনি।

প্রতিবেদনে সম্পাদকের বক্তব্যে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ও মাদক বহনকারীদের মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ক আছে। যাঁরা ভালো বাংলা বলতে পারেন, তাঁরা দক্ষিণাঞ্চলীয় উপজেলা টেকনাফ থেকে হেঁটে বা মোটরসাইকেলে করে সীমানা পেরিয়ে ইয়াবা নিয়ে আসেন। বেকারদের জন্য মাদক পরিবহন লাভজনক।

সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ বাংলাদেশ ২০১২-২১ সাল পর্যন্ত মাদককে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা পর্যালোচনা করে। এ সময় ১৩ হাজার ৯০৮টি ঘটনায় ৯৮৫ জন নিহত ও ১ হাজার ৫০৬ জন আহত হন। পিস রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালে এ ধরনের ঘটনা কম ছিল। রোহিঙ্গারা আসার পর বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে ২০১৮-১৯ সালে। এ সময় শুধু কক্সবাজারে ২৪১ জন নিহত হন। পরিসংখ্যান বলছে, শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে মাদককারবারীরা ছোট অস্ত্র ব্যবহার করেছেন।

এদিকে ওই প্রতিবেদনে গবেষণা সহযোগী আরেফিন মিজান লিখেছেন, মাদকবিরোধী প্রচার শুরুর পর পুলিশ ও র‌্যাব তাদের আভিযানিক তৎপরতা বাড়ায়। মাদককেন্দ্রিক সহিংসতা চার গুণ পর্যন্ত বাড়ে। নানা সহিংসতায়যুক্ত মাদককারবারীদের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বল প্রয়োগের ঘটনা এ সময় বেশি ছিল। ফলে প্রশ্ন ওঠে, আদৌ প্রচারের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সংকট কমল নাকি বাড়ল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন