জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি অধ্যাপক আবুল বারকাত
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার অর্থনীতিবিদ ও জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাত জামিন পেয়েছেন। রোববার আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন পান। তবে জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। তাঁর পারিবারিক একটি সূত্র বলছে, ঢাকার নিউমার্কেট থানার একটি বিস্ফোরক আইনের পুরোনো মামলায় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছে।
আবুল বারকাতের মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরনি বারকাত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বাবার জামিনের কাগজ নিয়ে তিনি বেলা দুইটার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। ‘রিলিজ অর্ডার’ কারাগার কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।
অরনি বারকাত বলেন, ‘আমাদের রাত ১০টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। পরে জানানো হয়, বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ প্রায় আট ঘণ্টা বসে থেকে পরিবারের সদস্যরা ফিরে এসেছেন জানিয়ে অরনি বারকাত বলেন, তাঁর বাবা খুবই অসুস্থ। তিনি ন্যায়বিচার চান।
নিউমার্কেট থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না জানতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এ রকম কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে জানতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (বিশেষ) জেল সুপার তায়েব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আবুল বারকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অধ্যাপক আবুল বারকাত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। গত বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে কারাগারে বন্দী অধ্যাপক আবুল বারকাত।