তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই, আতঙ্ক থেকে বাড়তি কিনছে: জ্বালানি বিভাগ
গত বছরের একই সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জনমনে তৈরি হওয়া শঙ্কাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আতঙ্ক থেকে অনেকে বাড়তি কিনছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র (যুগ্ম সচিব) মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।
মুখপাত্র বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হতো, এখনো তা–ই দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বেশি কিনছে। বিজয় সরণির ট্রাস্ট পাম্পে আগে ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন দেওয়া হলেও গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া হয়েছে ৮০ হাজার লিটারের বেশি।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এতে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১ লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার, পেট্রল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার এবং ফার্নেস তেল ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৯ হাজার ১১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অকটেন ও পেট্রলের মজুত দিয়ে আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না বলে উল্লেখ করেন জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ডিজেলের ক্ষেত্রেও এপ্রিল তো বটেই, মে মাসেও সমস্যা দেখছেন না। দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন, ফার্নেস তেল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন এবং জেট ফুয়েল ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন।