সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তেমন কোনো লাভ নেই: রেহমান সোবহান
সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তেমন কোনো লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
‘পুরাতন বন্দোবস্তে ভাঙন, সংস্কার এবং গণতন্ত্রের পুনর্ভাবনা: ক্রান্তিকালে দুঃসহ পথচলা’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এ আয়োজনে সহায়তা করে যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইডিআরসি)। অনুষ্ঠানে বিআইজিডির স্টেট অব গভর্ন্যান্স ২০২৪–২৫ গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়। বিআইজিডির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে কি না, এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বক্তারা অভ্যুত্থানের সময়কার সংহতি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি, তরুণদের রাজনৈতিক সংগঠনের গতিপ্রকৃতি, সংস্কার ও বিপ্লবের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক বিতর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
২০০৬ সাল থেকে বিআইজিডির স্টেট অব গভর্ন্যান্স প্রতিবেদনগুলো তাত্ত্বিক এবং মাঠভিত্তিক গবেষণা ও সুসংগঠিত কাঠামোর ভিত্তিতে দেশের শাসনব্যবস্থার জাতীয়, স্থানীয় ও খাতভিত্তিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আসছে।
সম্মেলনে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সংস্কার বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনার কথা কাগজে তুলে ধরলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাতে তেমন কোনো লাভ নেই।’
বিআইজিডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে পতনের দিকে নিয়ে যায়, সেটি আসলে ধারাবাহিকভাবে তৈরি হওয়া একাধিক সংহতির ফল ছিল। একক কোনো কারণ থেকে উদ্ভূত হয়ে নয়; বরং এই অভ্যুত্থান ছিল বহুদিনের মিলিত কারণের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ, যা মাত্র দুই মাসের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াসে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। ক্রমে এটি সামান্য ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদ থেকে প্রসারিত হয়ে বহুমুখী, বহু খাতের আন্দোলনে রূপ নেয়, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। শেষ পর্যন্ত রাজপথের সঙ্গে, ডিজিটাল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ধরনের সংহতি একসাথে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলে। তবে বক্তাদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই অভ্যুত্থানটি সত্যিকারের ‘গণ–আন্দোলন’-এ পরিণত হতে পারেনি।
গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনীতি
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জনসমর্থন ও বৈধতা অনেক বেশি ছিল। কারণ আন্দোলনকে জনগণ ব্যাপকভাবে সমর্থন করেছিল। বিআইজিডির একটি জাতীয় জরিপ (আগস্ট ২০২৪) অনুযায়ী ৮৩ শতাংশ মানুষ আগের সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে ছিল। আন্দোলনের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা সবচেয়ে বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি এটি আবারও প্রায় গণ–অভ্যুত্থানের আগের পর্যায়ে নেমে আসে। অর্থনৈতিক আশাবাদও কমে যায়, কারণ গভর্ন্যান্স ও অর্থনীতি উন্নত হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। আস্থা কমার ফলে দ্রুত নির্বাচনের দাবিও বাড়তে থাকে। রাজনৈতিক চাপ, দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিআইজিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের যথেষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি হয়। জনশৃঙ্খলার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ায় দলবদ্ধ সহিংসতা বাড়ে, যা সরকার পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। অনেক সময় জনগণের দাবিগুলো ন্যায্যতা বা সমতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসাব করে বিবেচনা করা হয়েছে। সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার খুব একটা সক্রিয় ছিল না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক অভিজাতদের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং সাধারণ নাগরিক গোষ্ঠীর জন্য কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ কঠিন হয়েছে । এ ছাড়া সংস্কার কার্যক্রম মূলত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দেওয়ায় এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা সংসদে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি রাজপথেও নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
গতকালের অনুষ্ঠানে উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান আলী রীয়াজ বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন না থাকায় রাষ্ট্রকে এমন এক আমলাতন্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা আগের সরকারের সময় শক্তিশালী ছিল।’ তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো আমার সঙ্গে যোগ দাও, যদিও একই সঙ্গে আমি তোমাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। এখানে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলোই গণভোটে সামনে আনা হয়েছে। যদি এগুলো অনুমোদিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার প্রশ্নের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সুশীল সমাজ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারত। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুশীল সমাজ মূলত রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছে। অথচ তারা আরও সক্রিয় হলে সরকারকে জবাবদিহি করতে সাহায্য করতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘দেশ এখনো অনেক দূর এগোতে পারে, সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান হয়নি; এবং এখনো এগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। গণভোটে এমন অনেক বিষয় আনা হয়েছে, যেগুলো ভোটে পাস হলে রাজনৈতিক দলগুলো জনতার চাপের মুখে পড়বে এবং সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে।’
ক্ষমতাবিহীন দৃশ্যমানতা: বাংলাদেশের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় জেন্ডারভিত্তিক বিতর্ক
স্টেট অব গভর্ন্যান্স গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি যে, নারীর উন্নয়ন ও অধিকারবিষয়ক এজেন্ডা সামনে আনার ফলে জনগণের মধ্যে এত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার অফিস নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করেছে এবং নেতিবাচক মতগুলোকে নিয়ে জনগণের আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত সুপারিশগুলোও তারা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই প্রকাশ করেছে।
পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা জোরদার করেছে, যেখানে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ পরিবারের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে, নিজের অধিকার বা স্বতন্ত্রভাবে নয়। জাতীয় কনসেনসাস কমিশন জেন্ডারভিত্তিক এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করতে চায়নি; আর সরকারও প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে সমর্থন করতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী হয়নি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘নীতিনির্ধারণে নারীদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জেন্ডারভিত্তিক সমস্যাগুলোকে প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে তুলে আনে। নারীরা, বিশেষ করে যাঁরা নীতিনির্ধারণের অবস্থানে আছেন, যদি অন্যদের ওপর নির্ভর করে তাদের লক্ষ্য এগোতে দেন, তাহলে নারীবাদী আন্দোলন পিছিয়ে যায়।’
গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন যুবরাজনীতি
বাংলাদেশের তরুণ এবং শিক্ষার্থীরা আগেও রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তবে বেশির ভাগ সময় তাঁরা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম তরুণেরাই বাংলাদেশে নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার এবং তাতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ার সূচনা করেন। বিআইজিডির যুব নেতৃত্বাধীন রাজনীতিবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে যে জুলাই বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলনভিত্তিক দল, যা শুরুতে অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হতো; কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সংগঠিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, আন্দোলনভিত্তিক দলগুলো প্রায়ই আন্দোলনের স্বাধীন কার্যপদ্ধতিকে পার্টি রাজনীতির দাবির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশেও দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যতই চেষ্টা করুক, ভেতরে অরাজক ও বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন অন্তর্বর্তী সরকারের মূলশক্তি হতে পারত। তারা একধরনের জবাবদিহিব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী সমর্থন গড়ে তুলতে পারত। হয়তো তারা ভেবেছিল, যদি সরকার থেকে দূরে থাকে, তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাবে, তাই তারা সরকারের সঙ্গে যুক্ত হলো; কিন্তু এই কৌশল ব্যর্থ হলো—অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হয়ে তারা সেই রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেল, যেটির থেকে তারা স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। তাদের কাছে স্পষ্ট কোনো ম্যান্ডেট বা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছানোর সুসংগঠিত কাঠামোও ছিল না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আসিফ শাহান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবর্তনের কঠিন সময়’ অতিক্রম করেছে, এবং এই কঠিন সময়কে পার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে অভিজাতদের ঐকমত্য এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি; এবং এখন আমাদের কাছে এমন একটি অভিজাত ঐকমত্য আছে, যেটিতে সাধারণ মানুষ বা নাগরিকদের কোনো অংশ নেই। আমরা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি এবং সংস্কারের ভবিষ্যৎকে নিয়ে নিশ্চিত নই।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, ‘যদিও শিক্ষা, জেন্ডার ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ সংস্কার নেওয়া যায়নি, তবু অর্থনীতিতে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। সংস্কার আমাদের প্রজন্মের জন্য কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন ছিল না; এটি একটি গভীরভাবে শিকড়গাঁথা প্রত্যাশা। সরকার হয়তো এগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট।’
লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাওমী হোসাইন বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের পরে সুশীল সমাজের শূন্য স্থানে একটি হিংস্র শক্তি প্রবেশ করেছে। আমরা দেখেছি মব নারী, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করেছে এবং দেশের দুটি প্রধান সংবাদপত্রকেও টার্গেট করেছে। এই হামলাগুলো আগের সরকারের কর্মকাণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি ফ্যাসিস্ট আচরণের মতো। অন্তর্বর্তী সরকার আরও দৃঢ়ভাবে বার্তা দিতে পারত যে কী গ্রহণযোগ্য এবং কী নয়—যাতে ব্যক্তিগত অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক সমাজের নীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।’