চার মামলায় জামিন পেলেন খায়রুল হক

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকফাইল ছবি

রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পৃথক চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন।

পৃথক চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর ৪ মার্চ শুনানি শেষ হয়। সেদিন আদালত রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করেন। সে অনুসারে চারটি আবেদন বেলা দুইটায় রায়ের জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ২০ থেকে ২৩ নম্বর পর্যন্ত ক্রমিকে ওঠে। বেলা ২টা ৫ মিনিটের দিকে রুল অ্যাবসলিউট (রুল যথাযথ) বলে রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন।

মামলাগুলোতে কেন খায়রুল হককে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এর মধ্যে আজ হাইকোর্টে চার মামলায় পৃথক চারটি জামিন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।

আর দুদকের করা মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুল হাইকোর্টের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তাঁর অন্যতম আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টে ১১ মার্চ শুনানি হতে পারে।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা শুনানি করেন। রায় ঘোষণার সময় খায়রুল হকের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাতার হোসেন সাজু ও আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন ও মো. জহিরুল ইসলাম সুমন।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন প্রথম আলোকে বলেন, চার মামলায় হাইকোর্ট খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল (অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল) সিদ্ধান্ত নেবেন।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।