টেকসই নগর গঠনে এগিয়ে শেল্‌টেক্‌

টেকসই নগর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শেল্‌টেক্‌ছবি: শেল্‌টেকে্র সৌজন্যে

বিশ্বজুড়ে শহরগুলো যে গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে, তাতে পরিবেশ এবং মানুষের ভারসাম্য নিশ্চিত করা প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ১১ নম্বর লক্ষ্য হলো ‘সাসটেইনেবল সিটিজ অ্যান্ড কমিউনিটিজ’; অর্থাৎ এমন শহর গড়ে তুলতে হবে, যা হবে সবার জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই।

এ ভাবনা সামনে রেখে শেল্‌টেক্‌ তাদের প্রতিটি প্রকল্পে সচেতনভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে কাজ করে চলেছে। দ্রুত নগরায়ণের এই সময়ে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প পরিকল্পনা করে চলেছে শেল্‌টেক্‌।

১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি তাদের গুণগত নির্মাণ, সময়মতো হস্তান্তর এবং গ্রাহকসেবার জন্য বেশ প্রশংসিত। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেল্‌টেক্‌ (প্রা.) লিমিটেড ‘সেরা টেকসই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি’ ক্যাটাগরিতে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও বাংলাদেশ ইনোভেশনকন ক্লেভের এই আয়োজনে বিভিন্ন খাতের ৩৫টি প্রতিষ্ঠান বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়। শেল্‌টেক্‌ একমাত্র রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, যারা এই ক্যাটাগরিতে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এ স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে টেকসই নগর গঠনে শেল্‌টেকে্র ভাবনা এবং সেই অনুযায়ী কাজ।

ডিজাইনে টেকসই ভাবনা

গত ৩৭ বছরে শেল্‌টেক্‌ ঢাকায় ৪ হাজার ১৪৫টির বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইউনিট হস্তান্তর করেছে। শেল্‌টেকে্র টেকসই নগর নির্মাণের প্রচেষ্টা নজর কাড়ে ডিজাইনে। প্রতিটি প্রকল্পে দেখা যায় খোলা জায়গা, ছাদবাগান, হাঁটার পথ ও বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা রয়েছে। পরিকল্পিত ছাদবাগান শহরের তাপমাত্রা কমায়, বাতাস বিশুদ্ধ রাখে এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। খোলা জায়গাগুলো ছোটদের খেলার জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি বড়দের হেঁটে বেড়ানো বা একটু নিশ্বাস নেওয়ার জায়গা হিসেবেও কাজ করে। শেল্‌টেকে্র প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্ট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে দিনের অধিকাংশ সময় প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস যাওয়া-আসা করতে পারে; যাতে কৃত্রিম আলো বা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানো যায়।

শেল্‌টেকে্র ভবনের ডিজাইনে ফুটে ওঠে টেকসই নগর নির্মাণের প্রচেষ্টা
ছবি: শেল্‌টেকে্র সৌজন্যে

পরিবেশ সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

শেল্‌টেক্‌ প্রকল্পগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংয়ের মতো প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং কার্বণ নিঃসরণ কমে; যা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। শেল্‌টেকে্র প্রকল্পে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা দিয়ে গাড়ি ধোয়া, গাছে পানি দেওয়াসহ নানা কাজে ব্যবহার করে পানির অপচয় কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

সর্বজনীন প্রবেশযোগ্যতা

শেল্‌টেক্‌ বিশ্বাস করে, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করাতেই আনন্দ। এই ভাবনা থেকেই প্রতিটি প্রকল্পের প্রবেশপথে রাখা হয় র‍্যাম্প, প্রশস্ত চলার পথ, হুইলচেয়ারে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ র‍্যাম্পযুক্ত ওয়াশরুম, প্রশস্ত লিফট, সেফটিবার এবং দিকনির্দেশনার জন্য ভিজ্যুয়াল সাইনেজ। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য এসব সুযোগ-সুবিধা রিয়েল এস্টেট খাতে অনন্যদৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছে।

কমিউনিটি বিল্ড-আপ

শেল্‌টেকে্র প্রকল্পগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয় যেন সবাই মিলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটির আবহ তৈরি হয়। মাল্টিপারপাস কমিউনিটি রুম, নামাজের জায়গা, শিশুদের খেলার জায়গা, বারবিকিউ স্পেস ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা থাকার কারণে শেল্‌টেকে্র বাসিন্দাদের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

‘শেল্‌টেক্‌ প্রত্যাশা’ প্রকল্পের নকশায় গ্রহণ করা হয়েছে কার্বণ নিঃসরণ কমানোর ব্যবস্থা
ছবি: শেল্‌টেকে্র সৌজন্যে

শেল্‌টেক্‌ প্রত্যাশা

টেকসই নগর নির্মাণের ধারায় ঢাকার নতুন সংযোজন হতে চলেছে শেল্‌টেক্‌ প্রত্যাশা। প্রকল্পটির নকশা করেছেন দেশের খ্যাতনামা স্থপতি নাহাস খলিল। ধানমন্ডিতে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে থাকছে ছাদবাগান, সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ খোলা স্থান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, মাল্টিলেভেল পার্কিং সুবিধা এবং সর্বজনীন প্রবেশযোগ্যতা। প্রকল্পটির নকশায় বিশেষভাবে সবুজকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি সচেতন, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ ঠিকানা।

শেল্‌টেক্‌ (প্রা.) লিমিটেড ‘সেরা টেকসই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ২০২৫’ অর্জন করেছে
ছবি: শেল্‌টেকে্র সৌজন্যে

শেল্‌টেক্‌ বরাবরই বিশ্বাস করে, রিয়েল এস্টেট মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল নির্মাণ। আর তাই সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং পরিবেশের প্রতি সম্মান—এ তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে শেল্‌টেক্‌।