সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মানুষের জীবন নিরাপদ রাখার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। সীতাকুণ্ডের দুর্ঘটনায় ১৩ জন ফায়ার ফাইটার শহীদ হওয়ার মাধ্যমে তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস যেকোনো দুর্যোগে প্রথম সাড়াদানকারী পারদর্শী বাহিনী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে ফায়ার সার্ভিসের বহুতল ভবনে কাজ করার মতো মাত্র একটি লেডার ছিল, যা দিয়ে ৮ থেকে ১০ তলার ওপরে কাজ করা যেত না। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য বহুতল ভবনে কাজ করার মতো ২৪টি উঁচু মইয়ের গাড়ি এনেছি। ৬৮ মিটার উচ্চতার লেডার-সংবলিত গাড়ি ফায়ার সার্ভিসের বহরে যুক্ত হওয়ায় তাদের আভিযানিক (অপারেশনাল) কাজের সক্ষমতা ২৪ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলো।’

অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের জনবল বৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের জনবল বৃদ্ধিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। ২০০৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের মোট জনবল ছিল ছয় হাজারের সামান্য বেশি। বর্তমানে জনবল ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ফায়ার স্টেশন নির্মাণের চলমান প্রকল্প শেষে এই সংখ্যা হবে প্রায় ১৬ হাজার। এ ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের জনবল ৩১ হাজার করার জন্য অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ৬৮ মিটার উচ্চতার টিটিএল গাড়িটি উদ্ধারকাজের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উচ্চতার। আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধাসংবলিত গাড়িটি বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার হোসেন ও সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বক্তব্য দেন।