দুপুর ১২টা থেকে অলিগলিতে পানি উঠতে শুরু করে। বেলা দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েন এসব এলাকার অন্তত এক লাখ মানুষ। তবে কিছু এলাকায় বিকেল চারটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে পানি নেমে যায়।

আজ দুপুরে জোয়ারের পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চাক্তাইয়ের সোবহান সওদাগর সড়কের কর্ণফুলী রাইস মিলের মালিক মো. আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মিলে পানি ঢুকেনি। কিন্তু আর দুই–তিন ইঞ্চি বেড়ে গেলে দোকানে পানি ঢুকে যেত। তাই খুব ভয়ে ছিলাম।’

জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা থেকে আবুল বাশার বেঁচে গেলেও দুর্ভোগে পড়েছিলেন নগরের ডিসি সড়কের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি যখন বাজার করতে গিয়েছিলেন, তখন রাস্তায় পানি ছিল না। বাজার করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেরার সময় দেখেন রাস্তায় হাঁটুপানি জমে আছে।

default-image

মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নালা–নর্দমা ও খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পানি সহজে নামতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে। আগে পানি মোটামুটি পরিষ্কার থাকলেও এখন দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় জোয়ারের পানিতে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে লাগোয়া এলাকা পাথরঘাটার আশরাফ আলী সড়ক ডুবে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের কারণে কলাবাগিচা খাল ও দুটি নালায় প্রতিবন্ধতা রয়ে গেছে। এ জন্য যে গতিতে পানি ঢুকে সে গতিতে নামতে পারে না। তাই জলাবদ্ধতা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

নগরের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায়ও নিয়মিত জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ২১ নম্বর সড়কের বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম বলেন, এটি পুরোনো সমস্যা। সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন সমাধানের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ দেখছেন না।

তবে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রামের জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে খালগুলোর মুখে জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলো চালু হয়ে গেলে এ দুর্ভোগ থাকবে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন