চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে ইসলামিক টিভির এমডি, শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাক্ষ্য নিয়ে আলোচনা

ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামস এস্কান্দার। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণেছবি: প্রথম আলো

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছেন ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামস এস্কান্দার। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি প্রয়োজনে সাক্ষ্য দেবেন।

আজ সোমবার বিকেলে চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে দেখা করার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শামস এস্কান্দার। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মামাতো ভাই। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দার তাঁর বাবা।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে। ট্রাইব্যুনালের এই সংক্রান্ত মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে দেখা করতে যান ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শামস এস্কান্দার সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে আলাপ করতে এসেছিলেন। ওই দিন কী ঘটেছিল, তা জানতে তাদের ডাকা হয়েছিল।

শাপলা চত্বরে হেফজতের সমাবেশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পণ্ড করে দেওয়ার সময় ইসলামিক টিভির সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শামস এস্কান্দার বলেন, ওই রাতে র‍্যাব ও সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাঁদের অফিস ভেঙে ফেলে। তাঁদের সম্প্রচারের যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, এডিটিং প্যানেল এবং অফিস তছনছ করে। ওই দিনই ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে তাঁদের কী বলার আছে, তা চিফ প্রসিকিউটর জানতে চান। তাঁদের কাছে যে যে আলামত আছে, সেগুলো রক্ষা করতে বলা হয়েছে। কারণ, এগুলো তদন্তের কাজে লাগবে।

এ সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এই মামলায় যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে সাক্ষ্য দেবেন কি না? জবাবে শামস এস্কান্দার বলেন, ‘অবশ্যই। অবশ্যই। এটা তো একজন নাগরিকের কর্তব্য।’

ওই সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি সাক্ষী হচ্ছেন? আপনাদের...সাক্ষীর জন্য কি বলেছে প্রসিউকিউশন থেকে?’

তখন শামস এস্কান্দার বলেন, ‘সেটা বলেছে, প্রসিউকিউশন থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সাংবাদিকদের মধ্যে একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমুখ এ মামলার আসামি।