চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুদে বার্তার মাধ্যমে ভেরিফিকেশনের অবস্থা জানতে পারায় পাসপোর্টের আবেদনকারীদের আর দালালদের কাছে যেতে হচ্ছে না। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না।’

নগরের কর্ণফুলী এলাকার বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম গত আগস্ট মাসে ই-পাসপোর্টের জন্য পাঁচলাইশ কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনের সপ্তাহখানেক পর তাঁর মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা আসে।

‘স্যার’ সম্বোধন করে খুদে বার্তায় বলা হয়, ‘উপপরিদর্শক (এসআই) শম্পা হাজারী। মুঠোফোন নম্বর...। আপনার পাসপোর্টটি ভেরিফিকশনের জন্য দেওয়া হয়েছে। নগর পুলিশের বিশেষ শাখা, সিএমপি।’

তৌহিদুল খুদে বার্তায় পেয়ে এসআই শম্পা হাজারীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র তাঁকে জোগাড় করে রাখতে বলা হয়।

কয়েক দিন পর তৌহিদুলের ঠিকানায় যান পুলিশ কর্মকর্তা। ভেরিফিকেশন শেষে প্রতিবেদন পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ তথ্যও তৌহিদুলকে খুদে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। ‘স্যার’ সম্বোধন করে বার্তায় বলা হয়, ই-পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি ইতিবাচক হওয়ায় ‘অনুমোদিত’লেখা হয় খুদে বার্তায়।

তৌহিদুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুদে বার্তা পাওয়ায় ভেরিফিকেশনের ব্যাপারে সিটিএসবিতে গিয়ে আর খোঁজ নিতে হয়নি। পরে পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে আমি আমার পাসপোর্টটি সংগ্রহ করি।’

আর ভেরিফিকেশনে কোনো সমস্যা ধরা পড়লে, আবেদন বাতিল হলে, সেই তথ্যও খুদে বার্তা দিয়ে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে খুদে বার্তায় লেখা হয়, আবেদন বাতিল (রিজেক্টেড)।

নগরের খুলশী এলাকার এক নারী প্রথম আলোকে বলেন, আবেদনের পর তিনি প্রথমে একটি খুদে বার্তা পান। এতে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর আবেদনটি সিটিএসবির কোন কর্মকর্তা যাচাই করছেন। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। ঠিকানাসংক্রান্ত ব্যাপারে তাঁর সমস্যা ছিল। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাঁর কাছে আরেকটি খুদে বার্তা আসে। এতে বলা হয়, তাঁর আবেদন বাতিল হয়েছে। ঠিকানা সংশোধন করে এখন তিনি নতুন করে আবেদন করেছেন।

গত বছরের জুলাইয়ে পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনে আবেদনকারীদের কাছে খুদে বার্তা পাঠানোর উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। উদ্যোগটি নেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (সিটিএসবি) মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগে আবেদনকারীদের তাঁদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন কী অবস্থায় আছে, তা জানতে অনেক কষ্ট হতো। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু দালাল ও পুলিশ সদস্য অবৈধ সুবিধা নিতেন। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই।

মনজুর মোরশেদ বলেন, পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে আবেদন ভেরিফিকেশনের জন্য এলে সঙ্গে সঙ্গে যাচাইয়ের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তালিকা করে আবেদনকারীদের খুদে বার্তা দিয়ে ভেরিফিকেশনের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়। ভেরিফিকেশন শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার পর আবেদনকারীদের তা খুদে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়।

নগরের শুলকবহরের বাসিন্দা প্রবাসী নাসিম উদ্দিন বলেন, আগে এমন খুদে বার্তার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আবেদন ভেরিফিকেশনে গেল কি না, পুলিশের কোন কর্মকর্তা ভেরিফিকেশন করবেন, এসব তথ্য জানা যেত না। এসব তথ্য জানতে অনেক ঘোরাঘুরি করতে হতো। দালালসহ নানা জায়গায় টাকাপয়সা খরচ হতো। এখন খুদে বার্তা চালু হওয়ায় এসব সমস্যা আর থাকার কথা না।

নগর সিটিএসবি জানায়, আবেদনকারীকে একটি খুদে বার্তা পাঠাতে ৯২ পয়সা খরচ হয়। নগর সিটিএসবি একটি কোম্পানির মাধ্যমে এই খুদে বার্তা পাঠায়।

খুদে বার্তা পাঠানোর জন্য অর্থের জোগান কোথা থেকে আসে, এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘সোর্স মানি থেকে খরচ করা হয়। একজন মানুষ যখন পুলিশের কাছ থেকে উপকার পাবে, পরবর্তী সময় তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। ইতিমধ্যে এই কাজের সুফল পাওয়া যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কার্যালয়ের পরিচালক আবু সাইদ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হলেও অনেক আবেদনকারী দূরদূরান্ত থেকে পাসপোর্ট কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করতেন। আবেদনটি কী অবস্থায় রয়েছে, তা আবেদনকারীর অনলাইনে জানার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে তা রয়েছে, সেটি জানার সুযোগ অনলাইনে নেই। এই তথ্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিএসবি খুদে বার্তা দিয়ে আবেদনকারীদের জানিয়ে দেওয়ায় এখন আর তাঁদের ছুটোছুটি করতে হয় না।