‘এত দিন গরমে অতিষ্ঠ ছিলাম, এখন জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা শুরু’

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও স্বজনেরা। আজ বেলা ১১টায়
ছবি: জুয়েল শীল

মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে সকালে ঘর থেকে বের হন আনিসুর রহমান। বের হয়ে বিপাকে পড়েন বাবা-মেয়ে। রাতের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বাড়ির সামনের রাস্তা। নালা-নর্দমা উপচে আসা ময়লা পানিতে হাঁটা সম্ভব নয়। রিকশাও পাওয়া যাচ্ছিল না। ২০ মিনিট অপেক্ষার পর রিকশা পেলেও গুনতে হয় ২৫ টাকা বাড়তি ভাড়া।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় চট্টগ্রাম নগরের ডিসি সড়ক এলাকায় এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আনিসুর রহমান। তবে এমন পরিস্থিতি তাঁর কাছে নতুন নয়। একটু ভারী বৃষ্টি কিংবা জোয়ার হলে তাঁদের এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। তখন তাঁদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। আনিসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে আমাদের যেন মুক্তি নেই। কিছুদিন আগে বৃষ্টি না থাকলেও জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডুবে ছিল। এখন বৃষ্টি শুরু হতেই পানিতে তলিয়ে গেল অলিগলি ও রাস্তা।’

গাজী সারোয়ার নামের এক বাসিন্দা বলেন, এত দিন গরমের কারণে অতিষ্ঠ ছিলাম। এখন জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। একবার পানি উঠলে চার-পাঁচ ঘণ্টায়ও নামে না।

প্রকৃতিতে বর্ষা ঋতু চললেও সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও কিছুদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। কাঠফাটা রোদে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে শুরু হয় স্বস্তির বৃষ্টি। তবে সে স্বস্তি বেশিক্ষণ থাকেনি। এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বুধবার সকালে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টি আরও দু-তিন দিন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরের দুই নম্বর গেট, আগ্রাবাদের চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, চকবাজার, বাকলিয়া, হালিশহরের ওয়াপদাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। বুধবার সকালেও এসব এলাকায় পানি জমেছিল।

একটু ভারী বৃষ্টি হলেই নগরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। নালা-নর্দমা থেকে উপচে আসে দূষিত পানি
ছবি: জুয়েল শীল

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা পানিতে ডুবে আছে। হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের জন্য রাখা আসনগুলো প্রায় পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে হচ্ছে রোগী ও রোগীর স্বজনদের। এভাবে পানি জমে থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

সানজিদা আক্তার নামের এক রোগীর অভিভাবক বুধবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে পানি জমে আছে। এখনো পানি নামছে না। কী যে কষ্ট, তা কাউকে বোঝানো যাবে না।

আরেক রোগীর অভিভাবক বলেন, সন্তানকে নিয়ে কয়েক দিন ধরে এই হাসপাতালে আছেন তিনি। চিকিৎসক আজ কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু পানির কারণে কাউন্টারে কেউ নেই। এ জন্য এসব পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

নগরের চকবাজার, কাঁচাবাজার ও এর আশপাশের এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে।