বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল কাজী মোহাম্মদ জাকারিয়াকে প্রধান করে প্রতিনিধিদলটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক সফরের অনুমোদন দেয়।

মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ ডেস্ক থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, প্রতিনিধিদলটি ইয়েমেন, ওমান, সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতার এবং প্রয়োজনে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাবে। তাদের যাওয়ার কথা ১৫ থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ১২ জানুয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, সুফিউলের খোঁজে এই প্রতিনিধিদল যাচ্ছে। তারা সেখানকার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবে, জানতে চাইবে কী অবস্থা। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জানি না আসলেই কারা তাঁকে (সুফিউল) অপহরণ করেছে। এখনো কেউ পিন পয়েন্ট (সুনির্দিষ্ট) করে বলতে পারছে না। আমরা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছি। জাতিসংঘও অনেক চেষ্টা করছে। এ জন্য এখন একটি প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছি।’

সুফিউলের পরিবারের এক সদস্য গতকাল প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের এখন পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি। জাতিসংঘ থেকে সুফিউলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, সান্ত্বনা দেওয়া হয়। খুঁজে বের করা বা উদ্ধার করার চেষ্টার কথা বলা হয়।

ইয়েমেনে অপহরণকারীদের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পক্ষের কাছে গত সেপ্টেম্বরে আকুতি জানান সুফিউল। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, খুবই দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন তিনি। অপহরণকারীদের দাবি মেনে না নিলে তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। সুফিউলের ওই ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে অপহরণকারীরা। পরে সেটি সামনে আনে বিশ্বব্যাপী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অনলাইন তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। ভিডিওতে সুফিউল বলেন, তাঁকে অপহরণ করেছে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা।

ভিডিওটি গত ৯ আগস্ট ধারণ করা উল্লেখ করে সুফিউল বলেন, সেখানে তাঁর অন্য সহকর্মীরাও আটক রয়েছেন।