শিশুকে অপহরণের পর স্বজনদের সঙ্গে থানায় অভিযোগ করতে যান অপহরণকারী

অপহরণপ্রতীকী ছবি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় অপহরণের শিকার আবদুল্লাহ মেজবা (৮) নামের এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার ভোররাতে উপজেলার একটি বিনোদনকেন্দ্রের কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই চারজনের মধ্যে অপহরণকারী একজন শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন।

অপহৃত শিশু আবদুল্লাহ লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা এলাকার প্রবাসী সালাউদ্দিন মৃধার ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার চারজন হলেন একই এলাকার উজ্জ্বল শেখ (৩৬), গৃহবধূ রোজিনা বেগম (৩৫) ও পাশের যোগিয়া এলাকার ভ্যানচালক জান্নাতুল শেখ (২০)। এ ছাড়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিশু আবদুল্লাহকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন একই গ্রামের মুদিদোকানি উজ্জ্বল। এতে একই এলাকার গৃহবধূ রোজিনা ও পাশের যোগিয়া গ্রামের ভ্যানচালক জান্নাতুলকে সম্পৃক্ত করেন উজ্জ্বল। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশু আবদুল্লাহ উজ্জ্বলের দোকানে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে তাকে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন উজ্জ্বল। এরপর অন্য সহযোগিদের সহযোগিতায় আবদুল্লাহকে একটি বিনোদনকেন্দ্রের একটি কক্ষে লুকিয়ে রাখা হয়। সেখানে শিশুটিকে পাহারা দিতে থাকেন উজ্জ্বলের সহযোগী রোজিনা।

পুলিশ সূত্র ও স্বজনেরা জানান, সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে শনিবার মধ্যরাতেই আবদুল্লাহর স্বজনেরা লোহাগড়া থানায় অভিযোগ করতে যান। তখন স্বজনদের সঙ্গে অপহরণকারী উজ্জ্বলও থানায় যান। এরপর উজ্জ্বলের দোকানের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে পুলিশ। এতে উজ্জ্বলের প্রতি সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর তাঁকে আটক করে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে অপহরণের কথা স্বীকার করেন উজ্জ্বল। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজ ভোররাতে আবদুল্লাহকে লুকিয়ে রাখা বিনোদনকেন্দ্রের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রোজিনাকে। গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনায় জড়িত অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল্লাহকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।