জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অফিসের সময় কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেটা করলে ভালো হয়, সেটাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সিদ্ধান্তটা আমরা নেব। আমরা সব বিষয় বিশ্লেষণ করে সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করব।’

ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনা মহামারির সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা বাসা থেকে অফিস করেছেন। এটি করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তাঁরা। বাসা থেকে কাজ করেও কিছুটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে যেকোনো সভা ভার্চ্যুয়াল হতে পারে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে ডিজেলের ব্যবহার কমানো এবং এটি আগামী দিনের জন্য মজুত রাখা। ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজন আছে। আমরা যতটা সঞ্চয় করে রাখতে পারব, ততই মঙ্গল হবে।’ সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাতে জ্বালানির অপব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারা জ্বালানির অপব্যবহার করছেন, সে প্রতিবেদন আমরা জমা নিচ্ছি। এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। যাতে কেউ জ্বালানি বা গাড়ির অপব্যবহার না করে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অফিস–আদালতে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এটি নিয়ে আলোচনা করেছি। যেটুকু প্রয়োজন, ততটুকু যেন ব্যবহার করা হয়।’

এদিকে আজ সোমবার সচিবালয়ে আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে সপ্তাহে একদিন পেট্রলপাম্প বন্ধ রাখা হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সঙ্গে বসবে।

এ বিষয়ে পেট্রলপাম্প মালিকেরা বলছেন, সপ্তাহে একদিন পেট্রলপাম্প বন্ধ রাখলে ভালো ফল মিলবে না। কারণ, আগের দিন সবাই বাড়তি জ্বালানি তেল নিয়ে রাখবে। তা ছাড়া যাঁরা রাইড শেয়ারিং করেন, তাঁরা বিপাকে পড়তে পারেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সপ্তাহে একদিন পেট্রলপাম্প বন্ধের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এতে কিছুটা হলেও তেল সাশ্রয় হবে। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অনেকে বন্ধের আগের দিন বেশি করে জ্বালানি কিনবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেনি, এটা ভালো হয়েছে। তবে আমাদের দাবি, রোববার ও বৃহস্পতিবার যাতে পেট্রলপাম্প বন্ধ না রাখা হয়।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আজ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, রাত আটটা থেকে দোকানপাট, শপিং মল, আলোকসজ্জা—সব বন্ধ থাকবে। রাত আটটার পর খোলা থাকলে দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মলের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিস্থিতি আমরা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছি। আমরা নিজেরাই রাত আটটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করছি। মাঝখানে কোরবানির ঈদের সময় বাড়তি সময় নেওয়া হয়েছিল। তবে যানজটের কারণে বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানির অপচয় হয়। সরকারকে সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন