সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গ্যাস-সংযোগ স্থানান্তর ও নতুন সংযোগ দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেদের করা মামলার তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণ পায়নি। আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রীর ছেলে, কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপকসহ পাঁচজনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে এর ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা পাঁচজন হলেন কেজিডিসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) মো. সারওয়ার হোসেন, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত দক্ষিণ জোনের টেকনিশিয়ান (সার্ভেয়ার) মো. দিদারুল আলম, ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও গ্রাহক মন্ত্রীর ছেলে মুজিবুর রহমান।
জানতে চাইলে মন্ত্রীর ছেলে মুজিবুর রহমানের পক্ষে তাঁদের প্রতিষ্ঠান সানোয়ারা গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান দেলোয়ার হোসেন আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে গ্যাস–সংযোগ নিয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম–দুর্নীতি হয়নি।’
চট্টগ্রাম আদালতে দায়িত্বরত দুদকের জিআরও আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে শুনানি হবে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১০ জুন দুদকের চাকরিচ্যুত উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। এতে বলা হয়েছিল, চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা এম এ সালামের (বর্তমানে মৃত) নামে বরাদ্দ করা ১৮টি অব্যবহৃত দ্বৈত চুলার গ্যাস–সংযোগ ছিল। এর মধ্যে ১২টি নগরের চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকার গ্রাহক মুজিবুর রহমানের নামে স্থানান্তর করা হয়। এ কাজে সালামের স্ত্রীর নামে ভুয়া চুক্তিনামাও করা হয়। এজাহার অনুযায়ী সালাম ও মুজিবুরের গ্রাহক সংকেত পৃথক হওয়ায় সংযোগ স্থানান্তরের কোনো আইনগত বৈধতা নেই। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস–সংযোগ দেওয়া বন্ধ থাকলেও সে সিদ্ধান্ত অমান্য করে মুজিবুরের নামে আরও ১০টি সংযোগ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ সময়কালে ভুয়া আবেদনপত্র তৈরির মাধ্যমে গ্রাহক মুজিবুরের নামে মোট ২২টি অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়।
মামলা হওয়ার তিন দিন পর ২০২১ সালের ১৩ জুন অবৈধ ২২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কেজিডিসিএল। কেজিডিসিএলের তিন কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে অবশ্য তাঁরা জামিনে বেরিয়ে আসেন।
দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায়, এম এ সালামের স্ত্রীর কোনো অভিযোগ না থাকায়, সরকারের কোনো আর্থিক ক্ষতি না হওয়ায় এবং ঘুষ লেনদের কোনো সাক্ষ্য–প্রমাণ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলো।
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্তে যা পেয়েছি, কমিশনে তা-ই তুলে ধরেছি। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।’ সাক্ষ্য-প্রমাণ কেন পাননি, সে প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি।