বেসরকারি খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতা নিশ্চিতে গাইডলাইন প্রণয়ন করতে নির্দেশ

হাইকোর্টফাইল ছবি

দেশের বেসরকারি খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনতা নিশ্চিতে গাইডলাইন বা প্রক্রিয়া প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসির এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স পদে নিয়োগে গত ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত চাকরির এক বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে অনামিকা নাহরিন নামের এক আইনজীবী ৮ ফেব্রুয়ারি রিটটি করেন। বিজ্ঞপ্তিতে শুধু ‘পুরুষ’ এবং ‘প্র্যাকটিসিং মুসলিম’ প্রার্থীর আবেদন করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রণে বিবাদীদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়।

হাইকোর্ট গত ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই চাকরির বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বৈষম্যহীন গাইডলাইন বা প্রক্রিয়া প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইয়া, আইনজীবী কারিশমা জাহান ও প্রিয়া আহসান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি থেকে গত মাসে চাকরির একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। লিগ্যাল এক্সিকিউটিভ পদে চাকরির ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আবেদন করতে হলে পুরুষ হতে হবে, প্র্যাকটিসিং মুসলিম হতে হবে। বিজ্ঞপ্তিটি স্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক। এই বিজ্ঞপ্তি কেন ও কীভাবে দেওয়া হলো, এর ওপর তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গাইডলাইন বা নির্দেশিকা তৈরি করতে সরকারকে বলা হয়েছে।

রুলে লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক এ ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা কেন অবৈধ এবং রিট আবেদনকারীর মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের (ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য করা যাবে না) আলোকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি কর্মস্থলে নিয়োগের জন্য গাইডলাইন গ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

শ্রম ও কর্মসংস্থানসচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, শিল্পসচিব, আইনসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।