জন্মনিবন্ধনে ই-পেমেন্ট সেবা প্রায় এক মাস বন্ধ 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের সমস্যার কারণে ই-পেমেন্ট সেবা বন্ধ রেখেছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়।

জন্মনিবন্ধন

রাজধানীর নূরেরচালা এলাকার সাইফুল ইসলাম গত ৮ ডিসেম্বর অনলাইনে ছেলের জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। গত মঙ্গলবার মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৯ কার্যালয়ে এসেছিলেন জন্মসনদ সংগ্রহ করতে। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। জানালেন, তাঁর ১৫ মাস বয়সী ছেলে শাহির ইসলামের জন্মনিবন্ধনের জন্য নিজেই অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। তবে অনলাইনে নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না।

সাইফুল বলেন, পরে নিবন্ধন কার্যালয়ে ফোন করে জানতে পারেন ই-পেমেন্ট (ইলেকট্রনিক ফি পরিশোধ) সেবা বন্ধ রয়েছে। তাঁকে নিবন্ধন কার্যালয়ে এসে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে হাতে হাতে অর্থ পরিশোধ করে আবেদন জমা দিতে হবে। পরে সে নির্দেশনা অনুসারে আবেদন জমা দেন। তবে কী কারণে ই-পেমেন্ট সেবা বন্ধ রয়েছে, সেটা তিনি জানেন না।

এক মাসের বেশি সময় ধরে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদনের ফি অনলাইনে দেওয়া যাচ্ছে না। সাইফুলের মতো যাঁরা এই সময়ে আবেদন করছেন, তাঁদেরও আবেদনপত্র নিয়ে আগের মতো হাতে হাতে ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সাইফুল বলেন, পরে নিবন্ধন কার্যালয়ে ফোন করে জানতে পারেন ই-পেমেন্ট (ইলেকট্রনিক ফি পরিশোধ) সেবা বন্ধ রয়েছে। তাঁকে নিবন্ধন কার্যালয়ে এসে আবেদনপত্র প্রিন্ট করে হাতে হাতে অর্থ পরিশোধ করে আবেদন জমা দিতে হবে। পরে সে নির্দেশনা অনুসারে আবেদন জমা দেন। তবে কী কারণে ই-পেমেন্ট সেবা বন্ধ রয়েছে, সেটা তিনি জানেন না।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বিভাগ জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের সমস্যার কারণে ২৬ নভেম্বর থেকে ই-পেমেন্ট সেবা বন্ধ রেখেছে কার্যালয়টি। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়-ব্যয় বিবরণী জমা (আয়কর রিটার্ন) দেওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত চাপের কারণে ই-পেমেন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে আবেদনপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হাতে হাতে ফি পরিশোধ চালু করে এ কার্যালয়।

নির্বাচনের পর এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তখন বলা যাবে কবে ই-পেমেন্ট সেবা আবার চালু হবে।
আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, যুগ্ম সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব), রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়

অবশ্য রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের নভেম্বর মাসের ই-পেমেন্টসংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, ২৮ নভেম্বর থেকে ই-পেমেন্ট কমতে থাকে আর ৩০ নভেম্বর থেকে ই-পেমেন্ট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ওই মাসে মোট ই-পেমেন্ট হয়েছে ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৪টি। এই সময়ে হাতে হাতে ফি পরিশোধ হয়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৮টি। এর মধ্যে ৯১ শতাংশের বেশি হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে।

জানা গেছে, ই-পেমেন্টের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘আইবাস প্লাস প্লাস’-এ যায়। আইবাস (ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম) হচ্ছে সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা। এটা ইন্টারনেটভিত্তিক সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে অনলাইনে বিল এবং রাজস্ব জমার হিসাবরক্ষণসহ বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন

গত বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ছিল রিটার্ন জমা দেওয়ার অতিরিক্ত চাপ। অবশ্য পরে এ বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

নভেম্বরের শেষে ই-পেমেন্টের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় আইবাস প্লাস প্লাসে। ওই সময় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে যাঁরা ই-পেমেন্ট করেছিলেন, তাঁদের কাউকে কাউকে ১২-১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও ফি পরিশোধে ব্যর্থ হন।

জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, আইবাস প্লাস প্লাসের দিক থেকে ই-পেমেন্টে সমস্যা হচ্ছে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আবেদনের ফি ই-পেমেন্টের পরিবর্তে হাতে হাতে নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

কবে নাগাদ ই-পেমেন্ট সেবা চালু হবে, জানতে চাইলে আবু নছর বলেন, নির্বাচনের পর এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তখন বলা যাবে কবে ই-পেমেন্ট সেবা আবার চালু হবে।

গত বছরের মে মাস থেকে সারা দেশে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদনের ফি অনলাইনে তথা ই-পেমেন্টের মাধ্যমে নেওয়া শুরু হয়। জানা গেছে, ই-পেমেন্ট নিয়ে এই সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় ভবিষ্যতে নিবন্ধনের আবেদনের ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতিই চালু রাখার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে রেজিস্ট্রার জেনারেল কর্তৃপক্ষ।