মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ। তিনি বলেন, চাকরিতে নিয়োগে বহুদিন ধরে বিশৃঙ্খলা চলছে। সরকারের নানা কল্যাণমূলক পদক্ষেপে দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তাহলে চাকরির বয়স কেন বাড়বে না? স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে চাকরির বয়স ৩০ বছরে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।

সাবেক এই সাংবাদিক নেতা আরও বলেন, ‘একাডেমিক সনদের মেয়াদ থাকে কীভাবে? বয়স ৩০ বছর হয়ে গেলে সনদ আর কাজে লাগবে না, সনদের কোনো মূল্য থাকে না। প্রশাসনিক স্তরে যাঁরা আছেন ও এসব নিয়ে ভাবেন, তাঁদের বিষয়টি একবার ভাবার জন্য অনুরোধ করছি।’

কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ‘অনেক মেধাবী দেশের বাইরে যাচ্ছেন, দেশের ভেতরে অকেজো হয়ে যাচ্ছেন। বেসরকারি খাতের চাকরির ক্ষেত্রে থাকা বিশৃঙ্খলা নিয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবতে হবে। বেসরকারি চাকরির এখন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা না হলে আমাদের শিক্ষা ও সনদের কী মূল্য আছে? সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি তুলে নিতে হবে।’ চাকরির পরীক্ষার কাগজের জন্য ৫০০ বা ১ হাজার টাকা ফি নেওয়া বেহায়াপনা, জুলুম ও বেইনসাফি কাজ‍ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চাকরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি মেনে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান মানববন্ধনের বিশেষ অতিথি সাবেক ফুটবলার রেহানা পারভীন।

চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল হাসান বলেন, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করতে হবে। একই সঙ্গে অবসরের বয়সও বাড়াতে হবে। দাবি আদায়ে ২৮ জানুয়ারি শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে শিক্ষার্থী সমাবেশ করা হবে বলে জানান তিনি।

পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইডেন মহিলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুক্তা সুলতানা বলেন, ‘চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ বছর করার দাবিতে আমরা প্রায় ১২ বছর ধরে আন্দোলন করছি। কিন্তু এখনো সরকার যৌক্তিক এ দাবি মেনে নেয়নি। বয়স নয়, যোগ্যতাই একজন প্রার্থীর একমাত্র মাপকাঠি। ডিজিটাল হওয়া সত্ত্বেও সোনার বাংলাদেশে পাকিস্তানকে অনুসরণ করে চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩০ বছরে সীমাবদ্ধ। এটা আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না।’

সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সানোয়ারুল হক বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমাই রাখা উচিত নয়।

সমন্বয় পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ও ছাত্রলীগ নেতা খোকন মিয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ‘সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজ’ নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব মোহাম্মদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম, আরিফ খান, সদস্য মোস্তফা আমির ফয়সাল প্রমুখ বক্তব্য দেন।