সৃজনশীলতার পথে পদে পদে বাধা

চলচ্চিত্রকার-বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলচ্চিত্রের ওপর থেকে ঔপনিবেশিক আমলের সেন্সর প্রথা বাতিল করা না হলে এ শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

ফিল্ম সার্টিফিকেশন ও ওটিটি নীতিমালা নিয়ে বিক্ষুব্ধ অংশীজনেরা সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেন। গত ২৫ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে
ফাইল ছবি

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার লক্ষণ বিচার করে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের সিনেমায় সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। একদিকে কারিগরি মানে উন্নত রুচিশীল বিনোদনের ছবি হাওয়া বা পরাণ দেখতে প্রেক্ষাগৃহ উপচে পড়ছে দর্শকে। অন্যদিকে বিশ্বের বড় বড় উৎসবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে বাংলাদেশের ছবি রেহানা মরিয়ম নূর, অন্যদিন..., শনিবার বিকেল বা আদিম

রোমাঞ্চকর সব গল্পে ও নির্মাণে ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্ল্যাটফর্মে একের পর এক আসছে সিরিজ ও সিনেমা। দেশ ছাপিয়ে দেশের বাইরেও এগুলো সুনাম কুড়াচ্ছে। দেশের চলচ্চিত্রে যখন আশাবাদী এক উন্নয়নের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তখনই এর সামনে কালবৈশাখীর মতো হাজির হতে শুরু করেছে কিছু বৈরী নীতিমালা এবং প্রশাসনিক উল্টোযাত্রা।

এ নিয়ে চলচ্চিত্রকার এবং এই অঙ্গনের অংশীজনেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এরই মধ্যে সরকারের কাছে কিছু দাবি পেশ করেছেন। তাঁরা মনে করছেন, সৃষ্টিশীল কাজে এ ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক চোখরাঙানি সূচনাতেই চলচ্চিত্রের এই নবযাত্রার গতি রোধ করতে উদ্যত হয়েছে। শুধু তা–ই নয়, এই তৎপরতা নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতার এবং সৃষ্টিশীলতা চর্চার অধিকারকেও বাধাগ্রস্ত করছে। চলচ্চিত্রের সুষ্ঠু বিকাশ চাইলে এবং এর মধ্য দিয়ে আর্থিক সাফল্য ও নান্দনিক উৎকর্ষ পেতে হলে এসব বাধা দূর করে সরকারকে অনুকূল আবহাওয়া সৃষ্টি করতে হবে।

প্রস্তাবিত ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাক্টের ধারাগুলা পড়ে মনে হয়, আমরা এখনো ইংরেজ বা পাকিস্তান আমলের উপনিবেশে রয়ে গেছি। নতুন আইনগুলো চেতনার দিক থেকে ১৯১৮ সালের ব্রিটিশ সেন্সরশিপ অ্যাক্ট, ১৯৬৩ সালের পাকিস্তানি আইন, ১৯৭৭ সালের সেনাশাসনামল কিংবা ১৯৮৫ সালের স্বৈরশাসকের বানানো আইনেরই ধারাবাহিকতা। একজন স্বাধীন নির্মাতার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?
চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন

সাম্প্রতিক ঘটনা

মুক্তির পর মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত হাওয়া ছবিটি নানা শ্রেণির দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সেই ছবিতে একটি পাখিকে খাঁচাবন্দী রাখা এবং অবশেষে একটি চরিত্রের সেটিকে খেয়ে ফেলতে দেখানোর কারণে পরিচালকের নামে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলার আবেদন করেছিল বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের চিত্রনির্মাতারা প্রশ্ন রেখেছেন, পর্দায় দেখানো কোনো চরিত্রের অপরাধের বিরুদ্ধে বাস্তব আইনে মামলা হতে পারে কি না। গল্পের খাতিরে পর্দায় কোনো মানুষকে হত্যা করতে দেখালে কি চলচ্চিত্রকারের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে?

তিন বছর ধরে সেন্সরবোর্ডে আটকে রাখা হয়েছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চলচ্চিত্র শনিবার বিকেল। এমনকি ছবিটিকে কেন সেন্সর ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না, তা–ও সরয়ার ফারুকীকে পরিষ্কার করে জানানো হয়নি। অথচ ইতিমধ্যেই কয়েকটি আন্তর্জাতিক উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী হয়েছে এবং জিতেছে পুরস্কার। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফারুকী। প্রতিবাদ করেছেন দেশের অন্যান্য পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরাও।

এ পরিস্থিতিতে গত আগস্ট মাসের শেষে কিছু দৃশ্য কর্তন ও সংশোধনের শর্তে ছবিটি মুক্তির আশ্বাস পাওয়া গেছে। কিন্তু নির্মাতা জানিয়েছেন, ছবিটি নির্মিত একটিমাত্র শটে। এ ছবিতে কোনো দৃশ্য কর্তন বা সংযোজন করলে ছবিটিই নষ্ট হয়ে যাবে। এ ছাড়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকী প্রশ্ন করেন, কোনো চলচ্চিত্রে কোনো দৃশ্য সংযোজনের কথা বলার এখতিয়ার সেন্সর বোর্ডের আছে কি না। তবে তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে পারিনি বলে এ নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তিনি কোনো দৃশ্য সংযোজনের কথা বলেননি। সমস্যা থাকলে বহু উপায়েই তার সমাধান সম্ভব।’

বিগত বহু বছরের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে চলচ্চিত্রকার–বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চলচ্চিত্রের ওপর থেকে ঔপনিবেশিক আমলের সেন্সর প্রথা বাতিল করা না হলে এ ধরনের অভিজ্ঞতা উপর্যুপরি ঘটতেই থাকবে। আবার অংশীজনের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ–আলোচনার পর সেন্সর প্রথা বাতিল করে ফিল্ম সার্টিফিকেশন প্রবর্তনের উদ্দেশে সরকার যে খসড়া নীতিমালা করেছে, সেটি তাঁদের মধ্যে আরও ভীতি সঞ্চার করেছে।

বিশ্বে নজির বিরল

বিশ্বের নানা দেশের অভিজ্ঞতা বলছে, তারা সেন্সর প্রথা থেকে ক্রমে ফিল্ম সার্টিফিকেশনে থিতু হয়েছে। অর্থাৎ কোন চলচ্চিত্র কোন বয়সের দর্শকদের দেখার উপযোগী, সেটি নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাক্ট আসছে। তবে প্রস্তাবিত আইনে যেভাবে চলচ্চিত্রে অভিব্যক্তি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ধারা রাখা হয়েছে, এমন নজির বিশ্বে বিরল বলে মনে করছেন নির্মাতারা।

সিনেমা দেখিয়ে সারা বিশ্বে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্র সেন্সরশিপের বদলে সিনেমাকে শ্রেণিবদ্ধ ও রেটিং করে দেয়। মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ও প্রেক্ষাগৃহের মালিকেরা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনাপদ্ধতি চালু রেখেছেন। সারা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোই সে পথে চলে এসেছে। পাশের দেশ ভারতেও তা–ই।

দেশটির ‘দ্য সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৯৫২’ অনুসারে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে সেখানকার চলচ্চিত্রকে সনদ দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রকে তারা চারটি ভিন্ন ভিন্ন শাখায় দেখার সনদ দিয়ে থাকে। প্রত্যাশিত শাখায় সনদ না পেলে আপিল করার সুযোগও রয়েছে।

সার্টিফিকেশনের মৌলিক দিকনির্দেশনায় সেখানে বলা হয়েছে—সিনেমাকে জনপরিসরে প্রদর্শনের জন্য প্রত্যয়ন করা হবে না, যদি প্রত্যয়নকারী কর্তৃপক্ষের মতে, চলচ্চিত্র বা এর কোনো অংশ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থবিরোধী (সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা), বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কবিরোধী, জনস্বার্থবিরোধী, শালীনতা ও নৈতিকতাবিরোধী, মানহানিকর বা আদালত অবমাননার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা যেকোনো অপরাধে উসকানি দিতে পারে।

চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, কলাকুশলী ও শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতার সমন্বিত শিল্প চলচ্চিত্রকে সেন্সর বোর্ড থেকে বাতিল করার নজির বিশ্বে এখন প্রায় বিরল। বৈশ্বিক নজিরের উল্টোপথে হেঁটে বাংলাদেশের সেন্সর বোর্ড নিজের হাতে সেই এখতিয়ার ধরে রাখতে চাইছে। এমনকি পরিচালকের শিল্পমাধ্যম চলচ্চিত্রে কোনো অংশ সংযোজন–বিয়োজনের নির্দেশও তারা দিচ্ছে।

প্রস্তাবিত সার্টিফিকেশন নীতিমালা

সম্প্রতি সেন্সর বোর্ড বাতিল করে ফিল্ম সার্টিফিকেশনের জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। সেখানে পুরোনো নিয়মের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে নতুন কয়েকটি অনুচ্ছেদ। যেমন কর্তৃপক্ষ চাইলে চলচ্চিত্রের সনদের মেয়াদ নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

যেকোনো জেলা প্রশাসক তাঁর জেলায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন স্থগিত করতে পারবেন। সার্টিফিকেশন বোর্ড সিনেমাটি প্রদর্শনের উপযুক্ত মনে না করলে সনদ প্রত্যাহার করতে পারবে। সার্টিফিকেশন বোর্ডের যদি মনে হয় যে সিনেমার কারিগরি মান খারাপ, কাহিনি মানসম্পন্ন নয়, অসংলগ্ন বা শিল্পগুণবর্জিত, তাহলে তারা সিনেমার প্রদর্শন সনদ প্রত্যাহার করতে পারবে।

এ ছাড়া ছবির কাহিনি, বিষয়, সংলাপ, দৃশ্য বা চিত্রায়ণসহ বিবেচ্য যেকোনো বিষয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা সংগঠনের মত গ্রহণ করতে পারবে বোর্ড। তবে সেসব মত প্রয়োগ হবে কি না, সেই এখতিয়ার থাকবে বোর্ডের হাতে।

চলচ্চিত্র পরিচালক পিপলু আর খান বলেন, ছবির শিল্প বা কারিগরি মান বিবেচনা করা মোটেই সেন্সর সার্টিফিকেশনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। কোনো ছবি গ্রহণ–বর্জনের এখতিয়ার কেবলই দর্শকের। সার্টিফিকেশনের মৌলিক ধারণা হলো একটি সংবেদনশীল সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ছবির দর্শকদের সামনে প্রদর্শনের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া।

পিপলু আর খানের মতে, ছবির শিল্পমান একান্তই ব্যক্তিগত রুচির বিষয়। এখন সেন্সর বোর্ডের হাত থেকে মুক্ত হয়ে সার্টিফিকেশনও যদি নিবর্তনমূলক হয়ে ওঠে, সেটি হবে চলচ্চিত্রের বিকাশের বিরোধী। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সার্টিফিকেশন চাই, যেটা ব্যবসাবান্ধব হবে, যেখানে বিনিয়োগকারী আসতে চাইবে। এমন নীতি চাই, যা চলচ্চিত্রের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও সহজ করবে।’

সেন্সরশিপ বাতিল করে চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উদারতার পরিচয় দিতে হবে বলে মত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ভালো মানের চলচ্চিত্রের কারণে প্রেক্ষাগৃহে ফিরতে শুরু করেছেন দর্শক। বিদেশি ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলছে বাংলাদেশের সিনেমা। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত সার্টিফিকেশন অ্যাক্ট নিবর্তনমূলক হয়ে উঠবে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা কামার আহমাদ সাইমন বলেন, ‘প্রস্তাবিত ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাক্টের ধারাগুলা পড়ে মনে হয়, আমরা এখনো ইংরেজ বা পাকিস্তান আমলের উপনিবেশে রয়ে গেছি। নতুন আইনগুলো চেতনার দিক থেকে ১৯১৮ সালের ব্রিটিশ সেন্সরশিপ অ্যাক্ট, ১৯৬৩ সালের পাকিস্তানি আইন, ১৯৭৭ সালের সেনাশাসনামল কিংবা ১৯৮৫ সালের স্বৈরশাসকের বানানো আইনেরই ধারাবাহিকতা। একজন স্বাধীন নির্মাতার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে?’

নতুন ওটিটিতে পুরোনো চাপ

টেলিভিশন ও প্রেক্ষাগৃহের নানা সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত নতুন মাধ্যম ওটিটির মাথার ওপরও ঝুলছে পুরোনো দিনের নিয়মের খড়্গ। ইতিমধ্যে প্রণীত হয়েছে ‘ওভার দ্য টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা প্রদান এবং পরিচালনা এবং বিজ্ঞাপন প্রদর্শন নীতিমালা ২০২১’–এর খসড়া। ওটিটির যাত্রা শুরু করার পর আশাবাদী হয়ে ওঠা নির্মাতা, শিল্পী ও প্ল্যাটফর্ম পরিচালকেরা প্রস্তাবিত এ আইনে উল্টো আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সোশ্যাল অ্যান্ড নিউ মিডিয়া অনুবিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁদের প্রস্তাবগুলো যদি সরকার বা দেশের পক্ষে থাকে, অবশ্যই সেগুলো বিবেচনা করা হবে।

তরুণ অভিনয়শিল্পীরা ওটিটিতে ভালো আর্থিক পেশাদারির অভিজ্ঞতা পাচ্ছিলেন। নির্মাতারাও পাচ্ছিলেন ভালো বাজেটের কাজ ও কাজের স্বাধীনতা। দর্শকও পেয়েছিলেন চলচ্চিত্রের নতুন স্বাদ। প্রস্তাবিত নীতিমালায় ওটিটির নিষিদ্ধ কনটেন্টকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে: মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শপরিপন্থী, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও অখণ্ডতার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী তথা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, দেশি সংস্কৃতিবিরোধী, সামাজিক মূল্যবোধ বিনষ্টকারী কনটেন্ট। নির্মাতা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংজ্ঞা এতটাই ব্যাপক ও অস্পষ্ট যে এটির নানা ব্যাখ্যা মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের বাধা সৃষ্টি হবে।

এর আরেক ধারায় বলা হয়েছে, অনলাইন কিউরেটেড কনটেন্ট প্রোভাইডার, নির্মাতা ও স্ট্রিমিং প্রোভাইডারের বিরুদ্ধে আনা নালিশ নিষ্পত্তির একটি পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু সেই নিষ্পত্তি পদ্ধতির কোনো বিবরণ খসড়ায় নেই। সংশ্লিষ্টদের ভয়, কতিপয় অসাধু ব্যক্তির হাতে নালিশের অধিকার তুলে দেওয়া হচ্ছে। 

এক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে ওটিটি এখন ২৫ বিলিয়ন ডলারের খাত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রণ কমালে এবং সুযোগ–সুবিধা বাড়ালে বাংলাদেশেও ওটিটি খাত দ্রুত বিকশিত হবে। ওটিটির মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি দেশের কনটেন্ট দেখলে এটি হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরেকটি পথ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশি ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কনটেন্ট এখন ক্রমে আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠছে। চরকিতে সারা পৃথিবী থেকে আমরা ২৯টি মুদ্রায় আয় করছি।

এটিও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি ভালো খাত হয়ে উঠতে পারে। সারা পৃথিবী ডিজিটাল হয়েছে। আমাদের সেটা মাথায় রেখেই নীতিমালা করতে হবে। অ্যাপল পে, পেপালের মতো সেবাগুলোর দরজাও খুলে দিতে হবে।’

অনেক সম্ভাবনা, অনেক প্রত্যাশা

বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজে সামগ্রিকভাবে আইনি, প্রশাসনিক ও সামাজিক বাধার শেষ নেই। দেশে যখন চলচ্চিত্র নিয়ে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সে সময় বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি আইন পুরো আবহাওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অংশীজনেরা। তাঁরা বলছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন–২০১৮, আইসিটি অ্যাক্ট–২০১৩-এর ৫৭ ধারা, সম্প্রচার নীতিমালা–২০১৪ (খসড়া) কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক কোনো সমাজের উপযোগী হতে পারে না।

আর চলচ্চিত্র একটি শিল্পকলা। তার কাজ আমাদের জীবনের চেনাজানা সীমানা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। এত এত বিধিনিষেধের ফাঁদ পেতে রাখলে শিল্পী তাঁর স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলবেন। নতুন এই সম্ভাবনার পরিস্থিতে নীতিমালার ক্ষেত্রে সরকারের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশা সে কারণে অনেক। চলচ্চিত্রকার অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘খসড়া ওটিটি নীতিমালা সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করছি, সরকার আমাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেবে।’