অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিষয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। এতে বলা হয়, উপনিবেশ–উত্তর দেশগুলো জাতিগত সংঘাতের দিকে থেকে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এসব দেশে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগের অভাব থাকে। সংখ্যা ও ক্ষমতার দিক থেকে যারা দুর্বল, তারাই সংখ্যালঘু। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় উপনিবেশ–উত্তর দেশগুলো পিছিয়ে। সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক একাগ্রতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বছরের পর বছর ধরে ঔপনিবেশিক দেশের শাসনে থাকার ফলে উপনিবেশ–উত্তর রাষ্ট্রগুলো সেই চরিত্র থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। এখনো সভ্য দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ সংখ্যালঘু জর্জ ফ্লয়েড হত্যার শিকার হন। ঔপনিবেশিক আর উপনিবেশ–উত্তর দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া কষ্টের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, সংখ্যাগুরুদের আগ্রাসী মনোভাবকে জাতীয়তাবাদ বলা হচ্ছে। উপনিবেশ–উত্তর দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের স্বকীয়তা, বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে ঐক্যবদ্ধ হতে বলা হয়েছে। এই দেশগুলো সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রতি অসংবেদনশীল। যাঁরা ক্ষমতায় আসেন, তাঁরা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাগুলোকে এড়িয়ে যান, ঘাঁটাতে চান না।

লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, সব উপনিবেশ–উত্তর রাষ্ট্রের পরিস্থিতি এক নয়। জবাবদিহি না থাকলে গণতন্ত্র হয় না। বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল সমস্যা, এটির বণ্টন হচ্ছে না। দারিদ্র্যের মাপকাঠি হচ্ছে মাথাপিছু আয়। কিন্তু সর্বনিম্ন মজুরি কত? ছয়-আট হাজার? এটাকে উন্নয়ন বলা যায় না। কিন্তু উন্নয়নের বটিকা খাওয়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, কেউ গৃহহীন থাকবে না। ঢাকার বস্তিতে কত লাখ মানুষ থাকে? মাথার ওপরে ঝুপড়ি আছে, তাই তারা গরিব না?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, দেশে রাজনৈতিক কারণে অনেকে সংখ্যালঘুদের চেয়ে বেশি নির্যাতিত হন। যে দল ক্ষমতায় আসে, তারা বিরোধীপক্ষকে চরমভাবে নির্যাতন করে। সারা পৃথিবীতেই এই রাজনৈতিক সংখ্যালঘু রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে সংখ্যাগুরুদের রাজনৈতিক সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন সীমা জামান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন