তাজউদ্দীন আহমদের কাছে বাঙালির ঋণ আকাশসমান, একই সঙ্গে অকৃতজ্ঞতাবোধও পাহাড়সমান ভারী বলে মন্তব্য করেন এই লেখক।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ যখন ২৫ মার্চ রাতে ভারতের উদ্দেশে চলে যাচ্ছেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে লিখেছেন, ‘আমি চললাম, তুমি সাড়ে সাত কোটি মানুষের মধ্যে মিশে যেও।’ তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যত দিন দেশ স্বাধীন না হবে, তত দিন সংসারধর্ম পালন করবেন না। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, দেশে ফিরে তিনি সেটি পুনর্নির্মাণ করেননি। তিনি বলেছিলেন যে ‘দেশের মানুষ গৃহহারা, আমি গৃহ নির্মাণ করব না।’ বাঙালিরা খুব ভাগ্যবান জাতি যে তাজউদ্দীন আহমদের মতো একজন মানুষ পেয়েছিল, যিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন।

তাজউদ্দীন আহমদ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুলতানা আক্তার বলেন, ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে তাজউদ্দীন তাতে যোগ দেননি। কারণ, দলের সঙ্গে ‘মুসলিম’ শব্দটি থাকায় এটি করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করতেন না। ১৯৫৩ সালে তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগদান করেন, তখন দলটির নামের সঙ্গে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পঞ্চাশের দশকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের অত্যাচার–নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। এটা লিপিবদ্ধ আছে।
অনুষ্ঠানে তাজউদ্দীন আহমদের লেখা ডায়েরি থেকে এবং তাঁকে লেখা দুটি চিঠি পাঠ করে শোনান আবৃত্তিশিল্পী তামান্না সারোয়ার ও সৈয়দ শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন