কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি

ভাটায় সাজানো ইট লেপে দিচ্ছেন দুজন নারী শ্রমিকছবি: প্রথম আলো

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পরিবহন খাতে। আর বেশি আহত হয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এমন প্রেক্ষাপটে আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষই যেকোনো দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি আর অগ্রযাত্রার প্রধান অবলম্বন। শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প, কৃষি, অবকাঠামো ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। সুতরাং তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানতম অঙ্গীকার।

১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকেরা কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা নির্ধারণ, কাজের উন্নত পরিবেশ, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেদিন দাবি আদায়ের জন্য পথে নেমে এসেছিলেন।

কিন্তু বিক্ষোভ দমনে সেদিন বর্বর কায়দা অবলম্বন করা হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন শ্রমিকেরা। সে ঘটনায় তখন সারা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে ওঠে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় শিকাগোর শ্রমিকদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই।

১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকেরা কাজের সময়সীমা আট ঘণ্টা নির্ধারণ, কাজের উন্নত পরিবেশ, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে ধর্মঘট আহ্বান করেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সেদিন দাবি আদায়ের জন্য পথে নেমে এসেছিলেন।

শতাব্দী পেরোলেও দেশের কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সংবাদপত্রভিত্তিক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে নিহত ১৮৬ শ্রমিকের মধ্যে ১৮৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে পরিবহন খাতে। কৃষিতে ১৯, নির্মাণে ১৪, প্রবাসী শ্রমিক ১১, দিনমজুর ১১, মৎস্য খাতে ৯, বিদ্যুৎ খাতে ৬ এবং অন্যান্য খাতে ৯ জন নিহত হন।

একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩৩৫ শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে ৩১৯ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। পোশাক খাতে সর্বোচ্চ ২৫০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ওয়ার্কশপ, পরিবহন, মৎস্য, পাদুকাশিল্প, স্টিলমিল, নির্মাণ ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গত বছরের চিত্রও উদ্বেগজনক। বিলসের হিসাবে, ২০২৫ সালের কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৭৩৫ শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে ৪৩৯ জনই পরিবহন খাতের। কৃষিতে ৭৩, নির্মাণে ৬৭, মৎস্যে ৩৫, দিনমজুর ৩২ এবং বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক প্রাণ হারান।

মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা।

কর্মসূচি

মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিক সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা।

আজ শুক্রবার শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করবে বিএনপি। বেলা দুইটায় অনুষ্ঠেয় এই সমাবেশে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া বেলা তিনটায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে পৃথক সমাবেশ করবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

পৃথক সমাবেশ করবে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ সকাল নয়টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এ ছাড়া বেলা তিনটায় শাহবাগে জাতীয় শ্রমিক শক্তির সমাবেশে বক্তব্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।