গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন বাস্তবায়নে নির্দেশ কেন নয়
গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনপদ্ধতি বাস্তবায়নে নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রুল দেন।
গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনপদ্ধতি বাস্তবায়নে নিষ্ক্রয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। আইনসচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থানসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
‘মোহাম্মদপুর মা-মেয়ে হত্যা মামলা: অভিযোগকারীর বক্তব্য’ বিষয়ে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর প্রথম আলো অনলাইনের ইংরেজি সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী আ জ ম আজিজুল ইসলাম। স্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) হত্যার ঘটনায় ওই মামলা করেন তিনি। মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় কথিত গৃহকর্মী মোছা. আয়েশাকে (২০) আসামি করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা গত ১৩ জানুয়ারি রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম ও রওশন আরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।
দেশে যাঁরা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জনস্বার্থে রিটটি করেন বলে জানান আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদ্যমান একটি আইন আছে, সেটি হচ্ছে ডোমেস্টিক সার্ভেন্ট রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স। এটি ১৯৬১ সালে করা হয়েছিল। এ অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকার জন্য এই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক ছিল যে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে হলে। আইন অনুসারে কেউ গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাইলে স্থানীয় থানায় তাঁর সঠিক পরিচয়, পরিচয়পত্র, আঙুলের ছাপ এগুলো নির্দিষ্ট ফরম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় (যে এলাকায় কাজ করতে চান) জমা দেবেন। জমা দিলে তথ্যগুলোর সঠিকতা যাচাই করে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন থেকে তাঁকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড সরবরাহ করবে। এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দেশনা আইনের মধ্যেই রয়েছে। ২০২৬ সালে এসে আইনটির প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই না। সে কারণে মোহাম্মদপুরে মা–মেয়েকে হত্যাসহ গৃহকর্মীদের কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে রিটটি করা হয়। …গৃহের সুরক্ষার জন্য গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন থাকা জরুরি, যাতে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়।’
গৃহকর্মীদের সুরক্ষার কথাও চিন্তা করা হয়েছে উল্লেখ করে রিট আবেদনকারী এই আইনজীবী আরও বলেন, সারা দেশে যাঁরা গৃহকর্মী আছেন, তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে সঠিক মর্যাদা নেই। যদি নিবন্ধন কার্ড থাকে, তাহলে তাঁদের স্ট্যাটাসও (মর্যাদা) বাড়ছে। দেখা যায় অনেক কিছুর কারণে তাঁরা একটা বাসায় কাজ শুরু করেছে, কিন্তু কিছুদিন পরে কাজ করতে পারছেন না। তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, মর্যাদা ও নিজস্ব পরিচয় দরকার। নিবন্ধনের ব্যাপারে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রিটে।